বিশ্বজুড়ে এখনো কোটি কোটি মানুষ খোলা আগুন বা ক্ষতিকর জ্বালানিতে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই চর্চা শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে না, বরং পরিবেশের জন্যও ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই সংকটের গভীরতা ও তা থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষ এখনো রান্নার জন্য কাঠ, কয়লা, কৃষিজ বর্জ্য কিংবা গোবরের মতো জ্বালানি ব্যবহার করেন। আফ্রিকা এই সমস্যায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। আইইএ-এর হিসাবে, শুধুমাত্র ঘরের ভেতরের বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে প্রতি বছর আফ্রিকায় প্রায় ৮ লাখ ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে।
আইইএ প্রধান ফাতিহ বিরোল জানান, আফ্রিকার প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে চারটি এখনো প্রথাগত পদ্ধতিতে রান্না করে। এর ফলে নারী ও শিশুরা শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রতিদিন প্রচুর মূল্যবান সময় ব্যয় হচ্ছে জ্বালানি সংগ্রহে।
এ ধরনের রান্না পদ্ধতি বন উজাড়ের মাধ্যমে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করছে। আইইএ বলছে, রান্নার ধোঁয়া থেকে যতো গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়, তা বৈশ্বিক বিমান চলাচল খাতের নিঃসরণের সমান।
তবে আশার কথা হলো—এই সংকটের সহজ ও সাশ্রয়ী সমাধান সম্ভব। আইইএ-এর মতে, প্রতিবছর মাত্র ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগেই এর স্থায়ী সমাধান আনা সম্ভব, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বিনিয়োগের মাত্র ০.১ শতাংশ।
২০২৪ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ১২টি আফ্রিকান দেশ ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে ২.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যার মধ্যে ৪৭০ মিলিয়ন ডলার ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর আওতায় মালাউয়িতে একটি আধুনিক চুলা তৈরির কারখানা ও উগান্ডা এবং আইভরি কোস্টে সাশ্রয়ী চুলা কর্মসূচি চালু হয়েছে।
আইইএ বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ, নবায়নযোগ্য গ্যাস এবং এলপিজি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। যদিও এলপিজি একটি জীবাশ্ম জ্বালানি, তবুও বন ধ্বংসের চেয়ে এটি অনেক নিরাপদ বিকল্প বলে বিবেচিত।
প্রতিবেদনটি বলছে, যদি ২০৪০ সালের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তবে আফ্রিকায় প্রায় ৪৭ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং প্রতিবছর ৫৪ কোটি টন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানো যাবে—যা বিশ্ব এভিয়েশন খাতের বার্ষিক নির্গমনের সমান।



