সুস্থ থাকার জন্য সকালে খালি পেটে ভেষজ উপাদান গ্রহণ একটি পরিচিত অভ্যাস। এর মধ্যে চিরতার পানি অন্যতম, যার তেতো স্বাদ অনেকেই সহ্য করতে না পারলেও আয়ুর্বেদ ও উপমহাদেশীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে এটি বহুদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আধুনিক চিকিৎসকরাও মনে করেন, চিরতার পানি খালি পেটে পান করলে শরীরে মিলতে পারে একাধিক স্বাস্থ্য উপকারিতা।
প্রথমত, এটি রক্ত পরিশোধন করে এবং ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে। শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে চিরতা রক্তকে পরিষ্কার করে, যার ফলে ত্বক হয় আরও স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল। চুলকানি, র্যাশ, অ্যালার্জির মতো ত্বকের নানা সমস্যাও এতে কমে যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, হজমশক্তি ও ওজন নিয়ন্ত্রণে চিরতার পানি অত্যন্ত কার্যকর। এটি বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে খাবার সহজে হজম হতে সাহায্য করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তৃতীয়ত, চিরতা লিভার পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে যারা ফ্যাটি লিভার বা লিভারে টক্সিন জমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি প্রাকৃতিক সমাধান।
চতুর্থত, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও চিরতার রয়েছে কার্যকারিতা। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিক রোগীদের উপকার করে এবং একই সঙ্গে খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
পঞ্চমত, মানসিক প্রশান্তি দিতেও সাহায্য করে চিরতার পানি। এতে থাকা স্বাভাবিক উপাদান ‘সোয়ার্টিয়ামারিন’ স্নায়ুকে শান্ত রাখে, ফলে এটি মানসিক চাপ কমিয়ে মেজাজ ভালো রাখতে সহায়ক।
অবশেষে, এটি একটি প্রাকৃতিক ডিটক্স হিসেবে কাজ করে। চিরতার পানি শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে এবং সারাদিন চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে।
চিরতার পানি তৈরির নিয়ম
রাতে কয়েক টুকরো চিরতা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই পানি ছেঁকে খালি পেটে পান করুন। কেউ কেউ এটি সেদ্ধ করেও খান। তবে এটি নিয়মিত গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ সবার শরীরে চিরতা একইভাবে কাজ না-ও করতে পারে।


