বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ফিফা কাউন্সিলের সদস্যদের না জানিয়ে বাইরের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করায় ক্ষমা চেয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে ক্ষমা চেয়েও সমালোচনা থেকে রেহাই পাননি তিনি। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় তাঁর নেতৃত্ব ও ফিফা সভাপতি হিসেবে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ড ও জার্মানির ফুটবল কর্মকর্তারা।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার ৩৭ সদস্যের কাউন্সিলের বৈঠক প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে চলে। বৈঠকে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠনের এই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর সমালোচনা শুরু হয়। পরে অবশ্য পরিকল্পনাটি বাতিল করে ফিফা।
বৈঠকের শুরুতে কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করে বাইরের অর্থদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করায় দুঃখ প্রকাশ করেন ইনফান্তিনো। তবে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) সভাপতি ও ফিফার সহসভাপতি ডেবি হিউইট মনে করেন, শুধু ক্ষমা চাইলেই আস্থা ফিরে আসবে না। বিনিয়োগ পরিকল্পনার নথিপত্র এবং এ-সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। হিউইটের ভাষ্য, ইনফান্তিনোকে এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে; তা না হলে ফিফা সভাপতি হিসেবে তাঁর যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।
ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বার্ন্ড নয়েনডর্ফও। তাঁর মতে, ফিফার প্রশাসন ও পরিচালনব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। তবে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বে সেই সংস্কার সম্ভব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি আগামী বছর ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিকল্প হিসেবে একজন প্রার্থী পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন নয়েনডর্ফ।
বিনিয়োগ পরিকল্পনার বাইরেও বৈঠকে ফিফার কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া ফিফার শান্তি পুরস্কার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের বিশ্বকাপ-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি। অভিযোগ রয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের তদবিরের পর বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল। এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ায় বৈঠক শেষে কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্যের অসন্তোষ রয়ে যায়।
এদিকে, ফিফার আর্থিক রিজার্ভ থেকে ৩৫০ কোটি ডলার বিতরণের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কাউন্সিল। আগামী চার বছরের চক্রে এই অর্থ সদস্য দেশগুলোর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে একদিকে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা বিতরণের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে চলমান বিতর্ক—সব মিলিয়ে ফিফার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নেতৃত্বের প্রতি কর্মকর্তাদের আস্থা কতটা ফিরবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।



