দৈনন্দিন জীবনের একটি পরিচিত ও বিরক্তিকর সমস্যা হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। শীতকালে পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এই সমস্যা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। কারও ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য সাময়িক হলেও অনেকের জন্য এটি মৌসুমি কিংবা দীর্ঘদিনের (ক্রনিক) সমস্যায় পরিণত হয়, যা জীবনযাত্রাকে করে তোলে অস্বস্তিকর ও দুর্বিষহ।
ডায়েটেশিয়ানদের মতে, কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ যাই হোক না কেন, খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত তিনটি খাবার ও অভ্যাস বজায় রাখলে অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয় এবং মলত্যাগ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর প্রতিবেদন অনুসারে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে যেসব খাবার কার্যকর, সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কলা অত্যন্ত উপকারী একটি ফল। কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা মলকে নরম করে এবং অন্ত্রের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এতে থাকা পটাশিয়াম ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদান্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে হজম প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করে তোলে। প্রতিদিন তিনবেলা খাবারের পর একটি করে কলা খাওয়ার অভ্যাস করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।
সবুজ শাকসবজির মধ্যে কলমি শাক কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে বিশেষভাবে সহায়ক। কলমি শাকের পাতা ও কাণ্ডে থাকা আঁশ বা ফাইবার হজম, পরিপাক ও বিপাকক্রিয়াকে সক্রিয় করে। নিয়মিত অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খাবারের তালিকায় কলমি শাক রাখা উপকারী।
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। দৈনন্দিন ব্যস্ততায় অনেকেই পানি পান কম করে ফেলেন, যা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য রয়েছে, তাদের প্রতিদিন অন্তত ৩ লিটার পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে মল নরম থাকে এবং সহজে ত্যাগ করা সম্ভব হয়।



