২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মানবিক আচরণ দিয়েও আলোচনায় এসেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জোসিমা ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যকে বিশ্বকাপ ফাইনাল উপভোগের সুযোগ করে দিতে তিনি নিজ উদ্যোগে ভিআইপি টিকিটের ব্যবস্থা করেন। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের পক্ষে স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা দেখা সম্ভব ছিল না। বিষয়টি জানার পর মেসি শুধু টিকিটই নয়, কেপ ভার্দে থেকে ফাইনালের ভেন্যু পর্যন্ত তাদের যাতায়াতের সম্পূর্ণ খরচও বহন করেন। ফলে তারা গ্যালারিতে বসে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল সরাসরি উপভোগ করার সুযোগ পান। যদিও সেই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম গোল ডটকম জানায়, মেসি তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন ভোজিনহার পরিবারের চার সদস্যকে বিনামূল্যে ফাইনালের ভিআইপি টিকিট দেওয়া হয়। বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণেই কেপ ভার্দে দারুণ নৈপুণ্য দেখায়। গ্রুপ পর্বে তারা স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে অপরাজিত থাকে। শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও ১১১ মিনিট পর্যন্ত ২-২ সমতায় ছিল ম্যাচটি। শেষ পর্যন্ত একটি আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা। পুরো টুর্নামেন্টে ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা মোট ১৮টি সেভ করে বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়ান।
চিলির সংবাদমাধ্যম লা তের্সেরা–এর বরাতে জানা যায়, ম্যাচ শেষে ভোজিনহা ও মেসির মধ্যে এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়। ভোজিনহার ভাষ্য অনুযায়ী, মেসি তাকে আলিঙ্গন করে বলেন, “তুমি অসাধারণ খেলেছ। তোমাকে নিয়ে তোমার দেশের মানুষের গর্ব করা উচিত।” এই প্রশংসাকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক। পরে তিনি মেসির কাছে জার্সি বদলের অনুরোধ করলে মেসি সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পর টানেলে তাকে নিজের জার্সি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোরের দাবি, ভোজিনহার পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আরও কয়েকজন আর্থিকভাবে অসচ্ছল ফুটবলপ্রেমীর জন্যও বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন মেসি। তার এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে এবং মাঠের বাইরেও তার মানবিক দৃষ্টান্তের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



