বাগেরহাটের চিতলমারীতে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এক গৃহবধূর হাতের স্বর্ণের আংটি, নাকফুল ও পিতলের বদনা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি এনজিওর কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী শ্রাবণী হীরা জানান, তিনি চিতলমারী উপজেলার আড়য়াবর্নি গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি তিনি ‘ড্যাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ (ডিএফইডি) চিতলমারী শাখা থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, যা লাভসহ ৪৫ হাজার ১২০ টাকায় পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু স্বামী রিপন কাজের জন্য বাইরে থাকায় কয়েকটি কিস্তি বকেয়া পড়ে যায়।
শ্রাবণীর অভিযোগ, গত ২৯ অক্টোবর সকালে এনজিওটির কর্মীরা তাকে বাড়ি থেকে ডেকে অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ও তার তিন বছরের শিশুকে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। বিকেলে অফিসে ফিরে কর্মকর্তারা জোরপূর্বক দুটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন এবং হাতের স্বর্ণের আংটি, নাকফুল ও পিতলের বদনা নিয়ে যান। এমনকি পুরো ঘটনাটি ভিডিও করেও রাখেন তারা। ভয়ে এতদিন কাউকে কিছু জানাতে পারেননি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ডিএফইডি চিতলমারী শাখার ম্যানেজার বাসুদেব দেবনাথ বলেন, “গৃহবধূ শ্রাবণীর কিস্তি বকেয়া ছিল। তার কাছ থেকে নাকফুল নেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হবে।”
স্থানীয়রা বলেন, এনজিওগুলোর ঋণ আদায়ের এই ধরনের পদ্ধতি মানবিক নয়। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।



