দেহের সুস্থতার অন্যতম শর্ত হলো কিডনি ভালো থাকা। কিন্তু অজান্তেই আমরা এমন অনেক ভুল করি, যার প্রভাব সরাসরি পড়ে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো পানির ঘাটতি। পর্যাপ্ত পানি না খেলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে দেখা দিতে পারে গেঁটে বাত, কিডনিতে পাথর, এমনকি হৃদরোগের জটিলতাও। তাই জানতে হবে— দিনে ঠিক কতটা পানি খাওয়া উচিত, আর কেন তা এত জরুরি।
রক্তে ইউরিক অ্যাসিড থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে কিছু খাবার ও জীবনযাপনের কারণে এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। সাধারণত ইউরিক অ্যাসিড কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, কিন্তু যখন এর পরিমাণ অতিরিক্ত হয়ে যায়, তখনই সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে বলা হয় ‘হাইপারইউরেসেমিয়া’ (Hyperuricemia)। দীর্ঘদিন ইউরিক অ্যাসিড অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তা থেকে গেঁটে বাত, কিডনিতে পাথর, এমনকি হার্টের জটিলতা পর্যন্ত হতে পারে।
সমাধান কী?
চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে কার্যকর ও প্রাকৃতিক সমাধান হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। শরীরে পর্যাপ্ত ফ্লুইড থাকলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের ঘনত্ব কমে যায় এবং কিডনি তা সহজেই ছেঁকে বের করে দিতে পারে। পানি মূলত শরীরের প্রাকৃতিক ‘ডিটক্সিফায়ার’, যা রক্ত পরিষ্কার রাখে ও কিডনির কার্যক্ষমতা উন্নত করে।
যদি শরীরে পানির ঘাটতি থাকে, তবে রক্তে অ্যাসিডের ঘনত্ব বেড়ে যায়, যা জোড়ায় বা কিডনিতে জমে সমস্যা সৃষ্টি করে। তাই সারাদিনে অল্প অল্প করে পানি পান করা সবচেয়ে উপকারী।
গবেষণায় যা জানা গেছে
‘চাইনিজ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’-এর গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি, তাদের দিনে অন্তত ২০০০–৩০০০ মিলিলিটার (৮–১২ গ্লাস) পানি পান করা জরুরি। একইভাবে ‘দ্য জার্নাল অব নেফ্রোলজি’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস ইউরিক অ্যাসিডজনিত কিডনি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।
দিনে কতটা পানি খাবেন?
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী—
পুরুষদের জন্য দিনে অন্তত ৮–৯ গ্লাস পানি,
নারীদের জন্য ৭–৮ গ্লাস পানি প্রয়োজন।
তবে একসঙ্গে অনেক পানি না খেয়ে সারাদিনে অল্প অল্প করে সিপ করে খাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর।
দিনের শুরুতে এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানি এবং তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়া আরও সক্রিয় হয় এবং দিনটি সতেজভাবে শুরু করা যায়।
সূত্র: এই সময় অনলাইন



