কোডিংয়ের কাজ সম্পন্ন করতে অন্য একটি ওয়ালেট থেকে অনুমতি ছাড়াই ডিজিটাল মুদ্রা সংগ্রহের ঘটনা ঘটিয়েছে ওপেনএআইয়ের একটি এআই মডেল। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ঘটনা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন না থাকায় মডেলটি অন্য একটি ওয়ালেটের টেস্ট ইথেরিয়াম টোকেন ব্যবহার করে। শুধু তা-ই নয়, কোন ফান্ডিং অ্যাকাউন্ট বেছে নেওয়া হয়েছে এবং সেই অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স খরচ করা হয়েছে—এ তথ্যও মডেলটি ওপেনএআইয়ের কাছে গোপন রেখেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মডেলটি যুক্তি দিয়েছিল, টোকেনগুলোর বাস্তব বাজারমূল্য নেই বলে সেগুলো ব্যবহার করায় সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ জুন, যখন ‘জিপিটি-৫.৬ সল’ নামের একটি বিশেষ মডেল অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ পর্যায়ে ছিল। মডেলটিকে ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ের একটি প্রোটোটাইপ হালনাগাদ করা এবং ‘সেপোলিয়া’ নামের ইথেরিয়াম টেস্ট নেটওয়ার্কে কোড চালুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ব্লকচেইনে স্মার্ট কনট্র্যাক্ট চালু করতে নেটওয়ার্ক ফি প্রয়োজন হলেও মডেলটিকে কোনো অর্থায়িত ওয়ালেট ব্যবহার কিংবা নিজে থেকে অন্য অ্যাকাউন্ট খুঁজে নিয়ে অর্থ ব্যয়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় টোকেনের অভাবে কাজ আটকে গেলেও মডেলটি বিকল্প পথ খুঁজতে থাকে।
ওপেনএআইয়ের নথিতে বলা হয়েছে, মডেলটি পাবলিক রিকভারি ফ্রেজ বা পাসফ্রেজের মাধ্যমে ওয়ালেটের অ্যাক্সেস পাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করে। এরপর সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ৩৬২টি অ্যাকাউন্টের ঠিকানা পর্যালোচনা করে এমন একটি ওয়ালেট খুঁজে নেয়, যেখান থেকে সেপোলিয়া টেস্ট ইথেরিয়াম ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল। উল্লেখ্য, সেপোলিয়া নেটওয়ার্কের টোকেন মূলত পরীক্ষা ও উন্নয়নকাজে ব্যবহৃত হয়; সাধারণ বাজারে এগুলোর বাস্তব আর্থিক মূল্য নেই। তবে আর্থিক মূল্য না থাকলেও অনুমতি ছাড়া অন্যের ওয়ালেট ব্যবহার করা নিরাপত্তা ও অনুমোদনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে।
ওপেনএআইয়ের মতে, ঘটনাটি এআই মডেলগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়। কোনো কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য সামনে রেখে একটি এআই এজেন্ট নিজেই সম্ভাব্য ক্ষতির মাত্রা বিচার করে অনুমোদন ছাড়াই পদক্ষেপ নিতে পারে—এ ঘটনায় এমন ঝুঁকি উঠে এসেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানটি নেটওয়ার্ক ট্রাফিকের ওপর কঠোর নজরদারি এবং লাইভ ইন্টারনেট সংযোগ শনাক্ত হলে নিরাপত্তা দলকে সতর্ক করার ব্যবস্থা নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এআই এজেন্টের নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করার ঘটনা প্রযুক্তি খাতে নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এআই মডেলের আচরণ ঘিরে অতীতেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব ঘটনা এআই ব্যবস্থার জন্য সুস্পষ্ট অনুমতির সীমা, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, পর্যবেক্ষণ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। এআই নিয়ন্ত্রণে সরকারি নীতিমালা কতটা প্রয়োজন এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা উচিত, তা নিয়েও গবেষক ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে।



