Embassy of Bangladesh, Washington, D.C.–এ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ পালন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী Washington, D.C.–এ অবস্থিত এই দূতাবাসে ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীরা ‘প্রভাত ফেরি’তে অংশ নিয়ে অমর একুশের কালজয়ী গান পরিবেশন করেন এবং ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। দূতাবাস প্রাঙ্গণে স্থাপিত শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় এবং এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনারও আয়োজন করা হয়।

এর আগে, ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দূতাবাস মিলনায়তনে এক বর্ণাঢ্য বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে United States Department of State, Embassy of Japan in Washington, D.C., Embassy of Nepal in Washington, D.C., Embassy of Nigeria in Washington, D.C. এবং Embassy of Sri Lanka in Washington, D.C.–এর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ক্যাপিটল হিলের প্রতিনিধিবৃন্দ, থিংক ট্যাংকের সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী Bethany Poulin Morrison। তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন। রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয় ঐতিহাসিক গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ পরিবেশনের মাধ্যমে। দূতাবাসের কর্মকর্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা গানটি পরিবেশন করেন। পরে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। প্রবাসী বাংলাদেশি শিশু-কিশোরদের নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি বুফে নৈশভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এ আয়োজন ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সুদৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।



