বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম WhatsApp ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন ধরনের সাইবার ঝুঁকির সতর্কতা এসেছে। ‘ঘোস্টপেয়ারিং’ নামের এক নতুন কৌশল ব্যবহার করে হ্যাকাররা এখন ওটিপি ছাড়াই ব্যবহারকারীর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারছে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে শুরু করে অফিসিয়াল কাজ পর্যন্ত নানা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এই অ্যাপের ওপর কোটি কোটি মানুষের নির্ভরতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক জেনিফার আলম জানান, হ্যাকাররা মূলত হোয়াটসঅ্যাপের ‘Linked Devices’ ফিচারকে কাজে লাগিয়ে এই আক্রমণ চালায়। সাধারণত কোনো অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে ওটিপি বা ভেরিফিকেশন কোডের প্রয়োজন হয়, কিন্তু ‘ঘোস্টপেয়ারিং’ পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর অজান্তেই একটি পেয়ারিং কোড ব্যবহার করে হ্যাকাররা অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার পেয়ে যায়। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠলেও অসচেতনতা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একবার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে গেলে ব্যক্তিগত ছবি, চ্যাট বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্ক্যাম সাধারণত একটি আকর্ষণীয় লিংক বা বার্তার মাধ্যমে শুরু হয়। পরিচিত কারও কাছ থেকে অফার বা কোনো ছবি দেখার লিংক পাঠানো হতে পারে। ব্যবহারকারী সেই লিংকে ক্লিক করে ফোন নম্বর দিলে হ্যাকাররা তাদের ডিভাইসে লগইনের চেষ্টা করে এবং তখন ব্যবহারকারীর ফোনে একটি ৮ সংখ্যার পেয়ারিং কোড আসে। যদি অসাবধানতাবশত সেই কোডটি ভুয়া ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গেই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।
এ বিষয়ে সাইবার নিরাপত্তা গবেষক রাইয়ান আ. মালিক বলেন, এটি মূলত ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং ফিচারের অপব্যবহারের একটি বিপজ্জনক সংমিশ্রণ। হ্যাকাররা এখন শুধু সফটওয়্যারের দুর্বলতা নয়, বরং ব্যবহারকারীর অসতর্কতাকেই কাজে লাগাচ্ছে। পেয়ারিং কোড ব্যবহার করে ব্যাকএন্ডে একটি প্যারালাল সেশন তৈরি করা হয়, যার মাধ্যমে হ্যাকার ব্যবহারকারীর এনক্রিপ্টেড চ্যাট, ছবি ও মিডিয়া ফাইল নিজের ডিভাইসে সিঙ্ক করে নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদ্ধতির সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো ব্যবহারকারী অনেক সময় বুঝতেই পারেন না যে তার অ্যাকাউন্টে অন্য কেউ প্রবেশ করেছে। ব্যবহারকারী নিজের ফোনে স্বাভাবিকভাবেই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে থাকলেও আড়ালে থেকে হ্যাকার সব তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ব্যবহারকারীদের কয়েকটি সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করা, নিয়মিত ‘Linked Devices’ তালিকা পরীক্ষা করা, সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা এবং শুধুমাত্র অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ব্যবহার করা। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে—তাই সচেতনতাই এ ধরনের আক্রমণ থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



