বলিউডের অন্যতম শীর্ষ তারকা সালমান খান। বক্স অফিসে তার সিনেমা মুক্তি পাওয়া মানেই রেকর্ডের ভাঙাগড়া। কিন্তু সাফল্যের এই চূড়ায় পৌঁছানোর আগে নিজের প্রথম উপার্জনে বিলাসবহুল কিছু কিনতে গিয়ে রীতিমতো ধার করতে হয়েছিল তাঁকে। তবে সেই ঋণ নিজের কোনো শখের জন্য ছিল না, বরং ছিল বাবা সেলিম খানের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য নিদর্শন।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সালমান ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সেই অজানা অধ্যায় শেয়ার করেন। তখন বলিউডে তার পায়ের নিচের মাটি সবে শক্ত হতে শুরু করেছে। হঠাৎই বাবার জন্য একটি রোলেক্স ঘড়ি পছন্দ হয় তার। কিন্তু পকেটে ছিল না পর্যাপ্ত অর্থ। ৯ লাখ রুপি দামের সেই ঘড়িটি কিনতে নিজের জমানো ৪ লাখ রুপির সঙ্গে বন্ধুদের কাছ থেকে আরও ৫ লাখ রুপি ধার করেন সালমান।
অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে ঘড়িটি যখন বাবা সেলিম খানের হাতে তুলে দেন, তখন ঘটে উল্টো ঘটনা। প্রখ্যাত এই চিত্রনাট্যকার ছেলের এমন কাণ্ড দেখে মোটেও খুশি হননি। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন অপচয় দেখে বেশ চটেছিলেন তিনি। সালমানকে ধমক দিয়ে বলেছিলেন, এখনো ঠিকঠাক কাজই শুরু হয়নি, এর মধ্যেই নিজেকে রাজা-বাদশা ভাবা শুরু করেছিস?
তবে শুরুর সেই রাগ টেকেনি বেশিদিন। পরবর্তীতে এই ঘড়িটিই হয়ে ওঠে সেলিম খানের সবচেয়ে প্রিয় অনুষঙ্গ, যা স্রেফ ঘড়ি নয়, তার কাছে ছিল একটি বিশেষ অলংকার। বছরের পর বছর সযত্নে ব্যবহারের পর সেই বিশেষ রোলেক্সটি এখন আবার সালমানের হাতেই শোভা পাচ্ছে। বাবা নিজেই সেটি ছেলেকে উপহার হিসেবে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
অথচ এই সালমান খানকে নিয়ে নেটদুনিয়ায় তার ঘড়ির সংগ্রহ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। সেসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে ভাইজান জানান, গত ২৬-২৮ বছর ধরে তিনি আসলে নিয়মিত ঘড়ি পরাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। বর্তমানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার হাতে যে দামি দামি ঘড়ি দেখা যায়, তার প্রায় সবই বন্ধুদের কাছ থেকে ট্রাই করার জন্য নেওয়া। পর্দায় সালমানকে আগামীতে দেখা যাবে অপূর্ব লাখিয়া পরিচালিত ‘মাতৃভূমি’ ছবিতে, যেখানে তার বিপরীতে থাকছেন চিত্রাঙ্গদা সিং।



