কমলা একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত ফল, যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বিশেষ করে এতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে এবং মৌসুমি ঠান্ডা, সর্দি ও ফ্লু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিয়মিত কমলা খেলে শরীর সহজে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে সুস্থতা বজায় থাকে।
ত্বকের যত্নেও কমলার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ত্বককে উজ্জ্বল, মসৃণ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এটি কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখে এবং শুষ্কতা কমায়। পাশাপাশি কমলায় প্রায় ৮০–৮৫ শতাংশ পানি থাকায় এটি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে, যা শীতকালে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর।
কমলার ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া ফ্ল্যাভোনয়েড ও ক্যারোটিনয়েডের মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
তবে উপকারী হলেও কমলা খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা মানা প্রয়োজন। অতিরিক্ত কমলা খেলে অ্যাসিডিটি বা পেটে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত, কারণ এতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে। আবার খালি পেটে কমলা খেলে অনেকের অস্বস্তি হতে পারে।
সঠিক উপায়ে খেলে কমলার পুষ্টিগুণ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। সকালে বা দুপুরে খাবারের পর কমলা খাওয়া ভালো। তাজা কমলা বা এর রস গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে প্রক্রিয়াজাত না করে সরাসরি ফল হিসেবে খেলে পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।



