বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ চাহিদা সময়ের সাথে সাথে অভাবনীয় গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৩ সালে দেশে ব্যান্ডউইথের চাহিদা ছিল মাত্র ৫০ জিবিপিএস (Gbps), যা ২০২৬ সালে এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩.৫ টিবিপিএসে (Tbps)। বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, ২০২৮ সালের মধ্যে এই চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ২৭ টিবিপিএসে।
বর্তমানে বাংলাদেশ মূলত দুটি সরকারি সাবমেরিন ক্যাবলের ওপর নির্ভর করে তার ইন্টারনেটের চাহিদা মেটাচ্ছে। চাহিদা ও জোগানের মধ্যবর্তী ঘাটতি পূরণে বাকি ব্যান্ডউইথ স্থলাংশের পথ বা টেরিস্ট্রিয়াল রুটের মাধ্যমে আমদানি করা হয়, যার বড় একটি অংশই আসে ভারত থেকে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পগুলো যদি বাস্তবায়নে বিলম্বের মুখে পড়ে, তবে ইন্টারনেটের জন্য দেশের ভারতের ওপর নির্ভরতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাবে। অতিরিক্ত সক্ষমতা যুক্ত করা সম্ভব না হলে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশে প্রায় ২৭ টিবিপিএসের বিশাল ব্যান্ডউইথ ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
ভারতের ওপর এমন অতিরিক্ত ডিজিটাল নির্ভরতা দেশের জন্য বেশ কিছু ঝুঁকি তৈরি করতে পারে:
মূল্য নির্ধারণের ঝুঁকি: ব্যান্ডউইথের দামের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা থাকে।
ক্যাপাসিটি বা সক্ষমতার ঝুঁকি: পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে।
রুট-সংক্রান্ত ঝুঁকি: সংযোগের রুট বিঘ্নিত হলে পুরো দেশের ইন্টারনেট সেবা স্থবির হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত একক নির্ভরতা দেশের ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব’ বা ডিজিটাল সক্ষমতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই এই ঝুঁকি এড়াতে সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং বিকল্প ব্যান্ডের সুব্যবস্থা করা জরুরি।



