আইপিএল ও পিএসএলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পরও বাংলাদেশের তারকা পেসার Mustafizur Rahman কেন কেন্দ্রীয় চুক্তির ‘এ’ ক্যাটাগরিতে জায়গা পাননি—এ নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে চলছে আলোচনা। সম্প্রতি Bangladesh Cricket Board (বিসিবি) জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নতুন কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে মোট ২৮ জন ক্রিকেটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। নতুন করে চুক্তিতে এসেছেন পারভেজ ইমন, তানভীর ইসলাম ও হাসান মুরাদ। তবে মোস্তাফিজকে রাখা হয়েছে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে, যা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মোস্তাফিজের সাফল্যই মূলত এই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি এর আগে Indian Premier League–এ নিজের দক্ষতার প্রমাণ রেখেছেন এবং চলতি মৌসুমে রেকর্ড পারিশ্রমিকে Kolkata Knight Riders দলে জায়গা পেলেও শেষ পর্যন্ত দলটি তাকে ছেড়ে দেয়। আইপিএলে খেলা না হলেও পরে একইভাবে বড় অঙ্কের চুক্তিতে তাকে দলে নেয় Pakistan Super League। ফলে আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি—দুই অঙ্গনেই তার চাহিদা থাকায় ভক্তদের প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর এই কেন্দ্রীয় চুক্তিতে এবার সর্বোচ্চ ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়নি কাউকেই; ক্রিকেটারদের চারটি গ্রেডে ভাগ করা হয়েছে। বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা না দিলেও গণমাধ্যমে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মোস্তাফিজ দারুণ করলেও ওয়ানডে ফরম্যাটে তার পারফরম্যান্স তুলনামূলক দুর্বল ছিল। ২০২৫ সালে ওয়ানডেতে ৮ ইনিংসে তিনি মাত্র ৫ উইকেট নেন, ইকোনমি ছিল ৫.১৫।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, কেন্দ্রীয় চুক্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে টেস্ট ক্রিকেটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, পেসার Taskin Ahmed ছাড়া ‘এ’ ক্যাটাগরিতে থাকা অন্যরা নিয়মিত টেস্ট খেলেন, যেখানে মোস্তাফিজ টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নেন না। অন্যদিকে ২০২৫ সালে তিনি ২০টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ৬.০৯ ইকোনমিতে ২৬ উইকেট শিকার করেন, যা সংক্ষিপ্ত সংস্করণে তার ধারাবাহিক সাফল্যেরই প্রমাণ।
সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে জনপ্রিয়তা ও পারফরম্যান্স থাকলেও বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফরম্যাটভিত্তিক অগ্রাধিকার—বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণ—মোস্তাফিজের ক্যাটাগরি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

