পর্দায় তিনি কখনো ভয়ংকর সিরিয়াল কিলার, কখনো বা অজেয় ‘ব্যাটম্যান’। তবে বাস্তব জীবনে হলিউড সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ান বেল যে কতটা কোমল মনের অধিকারী, তার প্রমাণ দিলেন এক অনন্য মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পামডেরে অনাথ শিশুদের জন্য ২৬৮ কোটি টাকা (২২ মিলিয়ন ডলার) ব্যয়ে একটি আধুনিক গ্রাম তৈরি করেছেন এই অস্কারজয়ী অভিনেতা।
অনাথ শিশুদের জন্য এক অনন্য গ্রাম: ক্রিশ্চিয়ান বেলের প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক সংস্থা ‘টুগেদার ক্যালিফোর্নিয়া’র অধীনে ৪.১ একর জমির ওপর এই বিশাল ফস্টার হোম বা গ্রামটি নির্মিত হয়েছে। এখানে রয়েছে ১২টি অত্যাধুনিক টাউনহোম, যার প্রতিটিতে রয়েছে ৩টি শোবার ঘরসহ জীবনযাপনের সব আধুনিক সুবিধা। প্রতিটি বাড়িতে সর্বোচ্চ ৬ জন শিশু থাকবে, যাদের দেখাশোনার জন্য থাকবেন প্রশিক্ষিত পরিচারিকা ও সহকারী। বর্তমানে ৭২ জন শিশুর আবাসন সুবিধা নিয়ে শুরু হওয়া এই গ্রামে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শিশুরা বসবাস শুরু করেছে।
ভাই-বোনদের এক ছাদের নিচে রাখা: যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত অনাথ আশ্রমগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় ভাই-বোনদের আলাদা করে রাখা হয়, যা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বেলের এই প্রকল্পের বিশেষত্ব হলো, এখানে অনাথ ভাই-বোনদের আলাদা করা হবে না; তারা একই সঙ্গে বড় হওয়ার সুযোগ পাবে। শিশুদের মানসিক ট্রমা কাটাতে এখানে বিশেষ থেরাপি ও কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
গ্রামের বিশেষ সুবিধাসমূহ: ৭ হাজার বর্গফুটের এই ভিলেজে শিশুদের খেলাধুলা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনোদনের জন্য রয়েছে বিশাল উন্মুক্ত স্থান। রোপণ করা হয়েছে ফল, ফুল ও ভেষজ গাছ। শিশুদের আত্মীয়স্বজন বা মা-বাবা দেখা করতে এলে তাদের থাকার জন্য রয়েছে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ক্রিশ্চিয়ান বেল নিজেই এই শিশুদের অভিনয়ের ওপর প্রশিক্ষণ দেবেন। এছাড়া বড় হওয়ার পর তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করবে এই সংস্থা।
যৌথ উদ্যোগ ও ব্যক্তিগত দর্শন: ২০০৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক এরিক এসরাইলিয়ানকে সঙ্গে নিয়ে এই যাত্রার সূচনা করেছিলেন বেল। এই প্রকল্পে ক্যালিফোর্নিয়ার শিশু ও পরিবারকল্যাণ অধিদপ্তরও (ডিসিএফএস) পরামর্শক হিসেবে যুক্ত রয়েছে। ৫১ বছর বয়সী বেল এই প্রকল্পটিকে তাঁর জীবনের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পর্দার আড়ালে থাকা এই প্রচারবিমুখ অভিনেতা প্রমাণ করলেন, লার্জার দ্যান লাইফ চরিত্র কেবল সিনেমার পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও হওয়া সম্ভব।


