রান্নাঘরে অনেক সময় দেখা যায়, আলু, পেঁয়াজ কিংবা রসুন থেকে অঙ্কুর বা চারা গজিয়েছে। তখন অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান—এই অবস্থায় এগুলো খাওয়া কি নিরাপদ? কারণ একদিকে এগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মনে হয়, অন্যদিকে নষ্ট না হলে কেনই বা ফেলে দেওয়া হবে? চলুন জেনে নিই কোনটা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, আর কোনটা নয়।
অঙ্কুরিত আলু: সাবধান হতে হবে
আলু অঙ্কুরিত হওয়া স্বাভাবিক হলেও এর ফলে একটি ক্ষতিকর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অঙ্কুরে তৈরি হওয়া গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড, বিশেষত সোলানাইন নামক যৌগ শরীরের জন্য বিষাক্ত। এটি আলুকে তিক্ত করে তোলে এবং বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে বমি, পেট ব্যথা এমনকি স্নায়বিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
কখন খাবেন, কখন নয়
যদি অঙ্কুর ছোট হয়, আলু শক্ত থাকে এবং সবুজ না হয়, তবে অঙ্কুর কেটে রান্না করা যেতে পারে।
তবে আলু যদি নরম হয়, কুঁচকে যায়, পচে যায় বা সবুজ ছোপ দেখা দেয়—তবে তা ফেলে দেওয়াই ভালো।
বিশেষ সতর্কতা
গর্ভবতী নারী, শিশু ও রোগপ্রতিরোধে দুর্বলদের জন্য ঝুঁকি বেশি
সবুজ অংশ পুরোপুরি ফেলে দিন
পচা বা কুঁচকে যাওয়া আলু খাওয়া যাবে না
অঙ্কুরিত পেঁয়াজ: নিরাপদ, তবে স্বাদে ভাটা
পেঁয়াজ থেকে অঙ্কুর গজালেও তাতে কোনো বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয় না। তাই এটি খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে সময় গেলে পেঁয়াজ নরম হয়ে যায় এবং স্বাদে তিতা ভাব আসতে পারে।
কি করবেন?
অঙ্কুর না চাইলে কেটে ফেলে দিন
যদি পেঁয়াজ শক্ত ও গন্ধহীন থাকে, নিশ্চিন্তে ব্যবহার করুন
সুতরাং, অঙ্কুর গজানো পেঁয়াজ খাওয়ায় তেমন সমস্যা নেই, তবে স্বাদ ও মান কিছুটা কমে যেতে পারে।
অঙ্কুরিত রসুন: নিরাপদ ও উপকারীও হতে পারে
রসুন থেকে অঙ্কুর গজানোও ক্ষতিকর নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে অঙ্কুরিত রসুনে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান বেড়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
কি করবেন?
অঙ্কুরসহ খাওয়া যায়
যদি তেতো লাগে, তাহলে কেটে ফেলে দিন
অনেকেই রসুনের অঙ্কুরিত অংশসহ রান্না করেন, যা নিরাপদ এবং মাঝে মাঝে স্বাস্থ্যকরও।
সংরক্ষণের সঠিক উপায়
অঙ্কুরোদগম রোধ করতে নিচের পরামর্শগুলো মানা জরুরি:
আলু, পেঁয়াজ ও রসুন ঠান্ডা (৩–১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস), শুষ্ক ও অন্ধকার জায়গায় রাখুন
আলু ও পেঁয়াজ একসঙ্গে রাখবেন না, এতে দ্রুত অঙ্কুর গজায়
সংরক্ষণের আগে এগুলো ধুয়ে রাখবেন না
জাল বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করুন, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে
অঙ্কুরিত মানেই সব কিছুই বিষাক্ত নয়। অঙ্কুরিত আলু যদি শক্ত থাকে এবং সবুজ না হয়—তবে তা কিছুটা কাটাছাঁট করে খাওয়া যায়। পেঁয়াজ ও রসুনে অঙ্কুর থাকলেও তা সাধারণত নিরাপদ। তবে যেকোনো সন্দেহজনক অবস্থা হলে সেফ সাইডে থাকাই ভালো। কারণ একটি ছোট ভুল সিদ্ধান্তও হতে পারে বড় বিপদের কারণ।


