অগ্নিদগ্ধ হওয়া কেবল শারীরিক যন্ত্রণা নয়, এটি শরীরের ভেতরে-বাইরে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে কাজ করে। শুধু চিকিৎসা নয়, এই সময়ে উপযুক্ত খাদ্যগ্রহণও দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পোড়ার পর শরীরের পুষ্টির চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক গুণ বেড়ে যায়।
কেন খাবারের যত্ন জরুরি?
অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর শরীরে শক্তি, প্রোটিন, পানি, ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা বেড়ে যায়। এসব উপাদান ক্ষত সারাতে, সংক্রমণ ঠেকাতে এবং নতুন কোষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সময় সঠিক খাবার না খেলে দ্রুত সংক্রমণ, পুষ্টিহীনতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি তৈরি হয়।
কী খাবেন?
১. পানি ও তরল: পোড়ার কারণে শরীর থেকে প্রচুর তরল বেরিয়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা আবশ্যক। এটি শরীর ঠান্ডা রাখে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা ঠিক রাখে।
২. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার: ক্ষত সারাতে এবং সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে। লেবু, কমলা, পেঁপে, আমলকি ইত্যাদি নিয়মিত খাওয়া উচিত।
৩. জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার: নতুন কোষ গঠনে সহায়ক। মাংস, ডিম, মটরশুঁটি, দানা শস্য, বাদাম ইত্যাদি খেতে পারেন।
৪. ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার: রোগ প্রতিরোধে এবং কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে। গাজর, কুমড়ো, মিষ্টি আলু, পালংশাক খুব উপকারী।
৫. প্রোটিন: টিস্যু মেরামতে সাহায্য করে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ডাল ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখুন।
৬. ফল ও সবজি: এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ শরীরকে দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে।
৭. পর্যাপ্ত ক্যালোরি: পোড়ার পর শরীরের ক্যালোরি চাহিদা বেড়ে যায়, তাই বেশি শক্তিসম্পন্ন খাবার খেতে হবে।
কী এড়িয়ে চলবেন?
১. অতিরিক্ত চিনি ও চর্বি: এগুলো শরীরে প্রদাহ বাড়ায়, ফলে ক্ষত সারাতে সময় বেশি লাগে।
২. অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন: এটি শরীরকে ডিহাইড্রেট করে, যা অগ্নিদগ্ধ রোগীর জন্য ক্ষতিকর।
৩. অতিরিক্ত মসলা: হজমে সমস্যা করে এবং শরীরকে অস্বস্তি দেয়।
বাড়তি যত্ন
পোড়া স্থান সবসময় পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো মলম বা ক্রিম ব্যবহার করবেন না। ড্রেসিং নিয়মিত বদলানো এবং যথাসময়ে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করাই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার মূল চাবিকাঠি।



