মিশরের বিপক্ষে গোল করে আবারও দলের ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের জয়ে দলের হয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গোল করেন তিনি। এই গোলটি শুধু ম্যাচ জয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, বরং এটি তার ক্যারিয়ারের আরেকটি মাইলফলক হয়ে উঠেছে। কেননা এই গোলের মাধ্যমেই তিনি ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা আর্জেন্টিনার সাবেক কিংবদন্তি গিয়ের্মো স্তাবিলের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। ৯৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এই রেকর্ডটি ছোঁয়া সত্যিই এক অবিশ্বাস্য অর্জন।
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে ৪টি ম্যাচে ৮টি গোল করেছিলেন গিয়ের্মো স্তাবিল। সেই সময় এটি ছিল বিশ্বকাপের একক আসরে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড, যা পরবর্তীতে অনেক তারকা ছোঁয়ার চেষ্টা করেও পারেননি। আর এখন সেই রেকর্ড নিজের করে ফেলেছেন মেসি। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি এখন পর্যন্ত ৫ ম্যাচে ৮টি গোল করেছেন, যা স্তাবিলের ৯৬ বছরের পুরোনো কীর্তির সমান।
শুধু তাই নয়, মেসি আরেকটি অনন্য রেকর্ডও গড়েছেন। তিনি এই বিশ্বকাপের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন। আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান, কেপ ভার্দে এবং মিশর—প্রত্যেকটি ম্যাচেই তিনি গোল পেয়েছেন। এই ধারাবাহিকতা তার অসাধারণ ফর্ম ও দলের প্রতি অবিচল নিষ্ঠার প্রমাণ। অন্যদিকে, এ বছর বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে, ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের মধ্যে অন্তত একটি ম্যাচে গোল না করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা মেসিকে এই রেকর্ডে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন মেসি। বিশ্বকাপে তার মোট গোল সংখ্যা এখন ২১। ফলে তিনি এককভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে অদ্বিতীয়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসের গোল সংখ্যা ১৬, যা মেসির চেয়ে ৫ গোল কম। অর্থাৎ মেসি এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে শীর্ষ গোলদাতা, যা তাকে ফুটবলের ইতিহাসে আরও উঁচু আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
চলতি আসরে এ পর্যন্ত ৮টি গোল করেছেন মেসি, যা প্রথম বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা স্তাবিলের কীর্তির সমান। আর সাতটি গোল নিয়ে তার ঠিক পেছনে আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হলান্ড। হ্যারি কেইন এখন পর্যন্ত ছয়টি গোল করে এই দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও এখনও সুযোগ রয়েছে তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার, যেখানে তারা গোলের সংখ্যা বাড়াতে পারেন। তবে বর্তমানে গোলদাতাদের তালিকায় মেসি সবার ওপরে রয়েছেন এবং তার ধারাবাহিকতা দেখে মনে হচ্ছে তিনি এই আসরে আরও গোল করতে পারেন।
আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে এবং তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে আগামী ম্যাচের মাধ্যমে। মেসির গোলের ধারা অব্যাহত থাকলে তিনি শুধু এই আসরেই নয়, বরং বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নামটি আরও বেশি সোনালি অক্ষরে লিখতে পারেন। দলীয় ও ব্যক্তিগত উভয় দিক থেকেই এটি তার জন্য একটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ হতে চলেছে।



