১৯৭৫ সালের এক বিষাদময় দিনে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে দাদা-দাদীর সাথে ট্রেন ভ্রমণের সময় হারিয়ে যান ফিরোজা বেগম। ভিড়ের মধ্যে বা অসাবধানতাবশত পরিবারের হাত থেকে ছুটে যাওয়ার পর তার জীবনের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে যায়। এরপর পার হয়ে গেছে দীর্ঘ ৫১টি বছর। শৈশবের স্মৃতি ধূসর হয়ে গেলেও পরিবারের কাছে ফেরার আকুতি কখনো মুছে যায়নি।
দীর্ঘ পাঁচ দশক পর এক অলৌকিক বালাই হিসেবে হাজির হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। ফিরোজার নিখোঁজ হওয়ার গল্প এবং সন্ধান চেয়ে সম্প্রতি একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগের ভাইরাল হওয়া পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মানুষের ওয়ালে, এবং ভাগ্যক্রমে তা পৌঁছে যায় ফিরোজার ভাই-বোনদের কাছে।
পোস্টের সূত্র ধরে যোগাযোগ শুরু হয় এবং তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের পর অবশেষে নিশ্চিত হওয়া যায় তাদের রক্ত সম্পর্ক। দীর্ঘ ৫১ বছর পর পরিবারের কাছে ফিরে আসেন ফিরোজা বেগম। ভাই-বোনদের চোখের জল এবং আবেগঘন মুহূর্ত যেন সময়কে থমকে দিয়েছিল।
তবে এই মিলনমেলায় একটি গভীর ট্র্যাজেডিও জড়িয়ে রয়েছে। ফিরোজা যখন তার পরিবারকে ফিরে পেলেন, ততদিনে তার মা-বাবা পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যে মা-বাবা নিজেদের হারানো সন্তানের জন্য অপেক্ষা করেছিলেন, সন্তান ফিরে আসার আনন্দ আর দেখে যেতে পারলেন না।
প্রযুক্তির সঠিক ও মানবিক ব্যবহার কীভাবে যুগ যুগ ধরে বিচ্ছিন্ন থাকা পরিবারকে আবার এক সুতোয় বেঁধে দিতে পারে, ফিরোজা বেগমের এই করুণ কিন্তু অলৌকিক ঘটনাটি তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।



