দীর্ঘ অর্ধশতাব্দীর বিরতি শেষে আবারও মানুষকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো অভিযানের পর ‘আর্টেমিস–২’ হতে যাচ্ছে চাঁদে মানুষের প্রথম মানববাহী মিশন, যার সম্ভাব্য উৎক্ষেপণ সময় ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে। নাসা জানিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি এই ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হতে পারে। বর্তমানে মিশনের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে এবং শিগগিরই ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস) রকেট ও ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানকে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাডে নেওয়া হবে। প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে রকেটটির প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।
দশ দিনব্যাপী এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন চারজন নভোচারী। নাসার কমান্ডার হিসেবে থাকছেন রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে ক্রিস্টিনা কোচ। তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। এই মিশনের মূল লক্ষ্য হলো ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানের লাইফ সাপোর্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা করা, যাতে ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্রাভিযানে নভোচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
উৎক্ষেপণের পর নভোচারীরা প্রথমে পৃথিবীকে দুবার প্রদক্ষিণ করবেন, এরপর চাঁদের দিকে যাত্রা শুরু করবেন। তারা চাঁদের দূরবর্তী পাশ বা ‘ফার সাইড’ অতিক্রম করে আরও প্রায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার গভীরে প্রবেশ করবেন। প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রকেট ও মহাকাশযান নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ প্যাডে পৌঁছালে জানুয়ারির শেষ দিকে নাসা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ পরিচালনা করবে, যেখানে জ্বালানি ভরানো থেকে শুরু করে পুরো কাউন্টডাউন প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে। তবে উৎক্ষেপণের চূড়ান্ত দিন নির্ভর করবে ফ্লোরিডার আবহাওয়া ও কারিগরি প্রস্তুতির ওপর।
নাসার ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচিকে চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী বসতি স্থাপনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ‘আর্টেমিস–২’ সফল হলে পরবর্তী ধাপে নভোচারীদের সরাসরি চাঁদের মাটিতে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে যেকোনো দিন এই মিশন শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে মানবজাতির মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় সূচনার অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ব।



