এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের রাতে জাতীয় স্টেডিয়াম ছিল দর্শকে ঠাসা। সবার প্রত্যাশা ছিল একটি লড়াই—আর বাংলাদেশ সেই লড়াইকে রূপ দিল একটি স্মরণীয় ঐতিহাসিক রাতে। দীর্ঘ ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে জয়ের সুযোগ সামনে আসতেই দল দেখাল শৃঙ্খলা, জেদ এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অসাধারণ দক্ষতা। ম্যাচের একাদশ মিনিটেই বদলে যায় খেলার মোড়। এরপর বাংলাদেশ ধরে রাখে লিড, ধরে রাখে আত্মবিশ্বাস এবং শেষ পর্যন্ত তুলে নেয় বহু প্রতীক্ষিত জয়।
ম্যাচের শুরুতে ভারত বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পায় বাংলাদেশই। ১১ মিনিটে বাঁ দিক থেকে রাকিব হোসেনের নিখুঁত পাস ঠান্ডা মাথায় গোল করে শেষ করেন শেখ মোরছালিন। লাল-সবুজ জার্সিতে এটি তার সপ্তম গোল, আর এই গোলটিই হয়ে ওঠে ইতিহাসের দরজা খুলে দেওয়ার মুহূর্ত।
৩৪ মিনিটে তপু বর্মণ ও ভারতের বিক্রমের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়ায় মাঠে। হাতাহাতির পর দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এর আগে বাংলাদেশের রক্ষণভাগে ভুলের সুযোগে ভারত গোল পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করেছিল, কিন্তু ঠিক সেই সময় বড় ত্রাতা হয়ে ওঠেন হামজা চৌধুরী—ভারতের বিপজ্জনক ক্রস হেড করে সাফ করে দলকে রক্ষা করেন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে হামজার দূরপাল্লার শট সামান্য বাইরে গেলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়। তবুও বিরতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ১–০ ব্যবধানে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভারত আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ—সাদ উদ্দিন, তপু বর্মণ এবং বদলি খেলোয়াড় শাকিল আহাদের দৃঢ়তায়—সব হামলা প্রতিহত হয়। ৬০ মিনিটে বল দখলে এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ভারত স্কোরলাইনে পিছিয়ে থাকে।
৮৩ মিনিটে ম্যাচে বড় একটি বিতর্ক তৈরি হয়। ভারতের একজন ডিফেন্ডারের হাতে বল লাগলেও বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের পেনাল্টির দাবি রেফারি নাকচ করেন। তবুও ধৈর্য না হারিয়ে দল নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।
শেষ মুহূর্তে কোচ বদলি হিসেবে মাঠে নামান শাহরিয়ান ইমন ও তাজউদ্দিনকে। মাঝমাঠে গতি, রক্ষণে দৃঢ়তা এবং আক্রমণে ছন্দ বজায় রাখায় যোগ করা সময়েও ভারত গোলের সুযোগ পায়নি।
শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামে শুরু হয় উন্মাদনা—২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ পেল কাঙ্ক্ষিত জয়। এই জয়ের পেছনে সমান কৃতিত্ব রইল মোরছালিন, হামজা ও পুরো দলের সমন্বিত পারফরম্যান্সের।



