২০১০ সালে প্রথমবার এশিয়ান গেমসে অংশ নিয়েই পুরুষ ক্রিকেটে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ১৬ বছর। ২০১৪ ও ২০২৩ সালের আসরে আর স্বর্ণপদক জেতা হয়নি বাংলাদেশের। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে সোনার পদক জিততে চান লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়রা।
জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ পুরুষ ক্রিকেটের লড়াই শুরু হবে বৃহস্পতিবার। র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে প্রথম রাউন্ডে ‘বাই’ পাওয়ায় সরাসরি কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। তবে কোয়ার্টার-ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রথম রাউন্ডের ‘বি’ গ্রুপে মুখোমুখি হবে ওমান, হংকং ও মালয়েশিয়া। এই গ্রুপের শীর্ষ দলের বিপক্ষেই আগামী মঙ্গলবার কোয়ার্টার-ফাইনালে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
প্রতিপক্ষ এখনো নিশ্চিত না হলেও প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখেনি বাংলাদেশ। ভারত ও পাকিস্তানের মতো পূর্ণ শক্তির দল ঘোষণা করার পর দেশে নিজেদের মধ্যে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বাধীন দল। দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে লিটন জানান, এশিয়ান গেমসে জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা এবং স্বর্ণপদকের জন্য লড়াই করা তার কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তার মতে, স্বর্ণপদক জেতাই দলের বড় স্বপ্ন এবং ক্রিকেটাররা এ নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত।
এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে লিটন আরও বলেন, যেকোনো টুর্নামেন্টে প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রতিপক্ষ সম্পর্কেও ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এবার প্রতিপক্ষ সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত না থাকায় সব দলের বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। নিজেদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং বিভিন্ন দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভালো ফল করার চেষ্টা থাকবে বলে জানান তিনি।
দীর্ঘ সময় পর টি-টোয়েন্টি দল একসঙ্গে হওয়ায় প্রস্তুতি ক্যাম্প ও দুটি অনুশীলন ম্যাচ দলীয় বন্ধন আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করেছে বলেও মনে করেন লিটন। চলতি বছরে ওয়ানডে ও টেস্ট বেশি খেললেও টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ তুলনামূলক কম ছিল। তবে অনেক ক্রিকেটার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে দলে ফিরেছেন। এখন নিজেদের সেরাটা দিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলাই দলের মূল লক্ষ্য।
ক্রিকেটের পাশাপাশি এশিয়ান গেমসের অন্য খেলাগুলো দেখারও আগ্রহ রয়েছে লিটনের। সময় ও সুযোগ পেলে অন্যান্য দেশের ক্রীড়াবিদদের খেলা দেখার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে কথা বলে নতুন কিছু শেখার সুযোগ নিতে চান তিনি। তার মতে, বিভিন্ন দেশের ক্রীড়াবিদদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনও একজন খেলোয়াড়ের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।



