বর্তমান যুগে পড়াশোনা বা বিনোদনের দোহাই দিয়ে খুব অল্প বয়সেই শিশুদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছেন অভিভাবকরা। তবে সম্প্রতি ‘আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ বছর বয়সে ফোন পাওয়া শিশুদের ঘুমের সমস্যার ঝুঁকি ৬০ শতাংশ এবং স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া কৈশোরের শুরুতে স্মার্টফোন ব্যবহারের সাথে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং মানসিক অস্থিরতার সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। মনোবিজ্ঞানী র্যান বারজিলে প্রায় সাড়ে দশ হাজার শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, এই ঝুঁকিগুলো কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়।
শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে এখন কঠোর আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করেছে এবং মালয়েশিয়াসহ বেশ কিছু দেশ এই পথে হাঁটার পরিকল্পনা করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে এখন শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খুলতে মা-বাবার অনুমতির প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্য সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেও শিশুদের ওপর ডিজিটাল ডিভাইসের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি।



