ভারত সফরের প্রথম পর্বে কলকাতায় চরম বিশৃঙ্খলার অভিজ্ঞতার পর হায়দরাবাদে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ইতিবাচক চিত্র উপহার দিলেন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি। রাজীব গান্ধি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সুসংগঠিত আয়োজন ও উচ্ছ্বসিত দর্শকদের উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যেখানে মেসিকে ঘিরে ছিল শুধুই উল্লাস ও ভালোবাসা। এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধিসহ তেলেঙ্গানা রাজ্যের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হায়দরাবাদে পৌঁছান আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। কলকাতার ঘটনার ঠিক বিপরীত দৃশ্য দেখা যায় এখানে। নিরাপত্তা, ব্যবস্থাপনা ও দর্শকদের শৃঙ্খলাবোধ—সব মিলিয়ে হায়দরাবাদে মেসির উপস্থিতি রূপ নেয় এক প্রশান্ত ও উৎসবমুখর বিনোদনে।
সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিতেই রাজীব গান্ধি আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের দর্শকদের মুগ্ধ করেন মেসি। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে একের পর এক বল গ্যালারিতে পাঠিয়ে দর্শকদের উল্লাসে মাতান তিনি। পাশাপাশি দর্শকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান আর্জেন্টাইন ফুটবল জাদুকর।
‘গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে ইন্টার মায়ামির সতীর্থ লুইস সুয়ারেস ও রদ্রিগো ডি পলকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন মেসি। সে সময় সেখানে চলছিল একটি প্রদর্শনী ম্যাচ, যেখানে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডিও কিছু সময় মাঠে খেলেন। ভিআইপি বক্স থেকে ম্যাচ উপভোগ করার পর মাঠে নেমে দুই দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেন মেসি, দেন অটোগ্রাফ এবং ছবি তোলেন।
মাঠে নেমে মেসি দুবার বল জালে পাঠান এবং খুদে ফুটবলারদের সঙ্গে সময় কাটান। ডি পল ও মেসিও দর্শকদের জন্য গ্যালারিতে বল ছুড়ে দেন। ম্যাচ শেষে জয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন মেসি। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, হায়দরাবাদে থাকতে পেরে তিনি ভীষণ আনন্দিত এবং উপস্থিত সবাইকে ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ জানান। রদ্রিগো ডি পল বলেন, “এটি একটি বিশেষ সন্ধ্যা। আপনাদের ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি, আমরা আবার বিশ্বকাপ জিততে পারব।”
অনুষ্ঠানে যোগ দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভান্ত রেড্ডি ও রাহুল গান্ধিকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সি উপহার দেন মেসি। এরপর স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন এই বিশ্বফুটবল তারকা।
এর আগে, কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে মেসির উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, মাত্র ২০ মিনিট স্টেডিয়ামে ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক নেতা ও তারকাদের ভিড়ে সাধারণ দর্শকদের বড় একটি অংশ মেসিকে দেখতে না পাওয়ায় তার চলে যাওয়ার পর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দুঃখ প্রকাশ করে তদন্তের ঘোষণা দেন এবং উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে বিমানবন্দর থেকে আটক করে পুলিশ।
কলকাতা ও হায়দরাবাদ পর্ব শেষ করে মুম্বাই হয়ে দিল্লি সফরের মধ্য দিয়ে মেসির ভারত সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।



