আজকের জীবনে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা প্রায় অসম্ভব। অনেকেই সরাসরি সক্রিয় না থাকলেও বন্ধু, পরিবার ও পরিচিতজনদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে নিয়মিত স্ক্রোল করেন। কিন্তু অজান্তেই এই স্ক্রোলিং অভ্যাস আমাদের দৈনন্দিন সময়ের পাশাপাশি শরীর ও মনের ওপরও প্রভাব ফেলছে। গবেষণা বলছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা কনটেন্ট আমাদের খাদ্যাভ্যাস, মানসিক অবস্থা, আত্মসম্মান এবং সামগ্রিক সুস্থতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তাই স্ক্রোল করতে করতে হঠাৎ অস্বস্তি বা অসুস্থ বোধ হওয়াটা মোটেও অস্বাভাবিক নয়।
গবেষণায় উঠে এসেছে, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করার সময় খাবারের ছবি দেখলে মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সেন্টার সক্রিয় হয়, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং অজান্তেই অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে খাবারের বিজ্ঞাপন দেখার পর খাদ্য গ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া পারিপার্শ্বিক চাপও বাড়ায়। অন্যদের পছন্দ, মতামত ও গ্রহণযোগ্যতা আমাদের সিদ্ধান্ত ও আচরণকে প্রভাবিত করে, যা মানসিক চাপে পরিণত হতে পারে।
বারবার নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট দেখার ফলে মস্তিষ্কে ‘বিহেভিয়ারাল প্রাইমিং’ ঘটে। নেতিবাচক খবর, অস্বাস্থ্যকর খাবার বা উদ্বেগজনক পোস্ট বেশি দেখলে সেগুলো মস্তিষ্কে অগ্রাধিকার পায় এবং ধীরে ধীরে আমাদের আচরণ ও মনোভাব বদলে দেয়। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া মেজাজের ওপরও বড় প্রভাব ফেলে। গবেষণা অনুযায়ী, স্ক্রোল করার পর প্রতি তিনজনের একজনের মন খারাপ হয়ে যায়। অন্যের ভ্রমণ, সাফল্য বা সুখী মুহূর্ত দেখে ঈর্ষা, হতাশা ও একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়া সুখের অনুভূতিকেও নিয়ন্ত্রণ করে। ইতিবাচক কনটেন্ট দেখলে মানুষ বেশি আশাবাদী ও প্রফুল্ল হয়, আর নেতিবাচক কনটেন্ট মানসিকভাবে চাপ তৈরি করে। তাই স্বাস্থ্যকর ও ইতিবাচক ফিড মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
এই পরিস্থিতিতে সচেতন ব্যবহারই হতে পারে সমাধান। নিজের ফিডে ইতিবাচক, অনুপ্রেরণাদায়ক ও স্বাস্থ্যসম্মত কনটেন্ট রাখা, অপ্রয়োজনীয় পেজ আনফলো করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ডিজিটাল ডিটক্স নেওয়া মানসিক প্রশান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। সোশ্যাল মিডিয়া শুধু সময় কাটানোর জায়গা নয়—এটি আমাদের মন, আচরণ ও স্বাস্থ্যের প্রতিচ্ছবি। তাই সুস্থ থাকতে হলে ফিডও হতে হবে স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ।



