দুধ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই পানীয়টিকে অনেকেই ‘সুষম খাদ্য’ বলে থাকেন। এতে রয়েছে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ল্যাকটোজ, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ—যা শরীরের গঠন, হাড়ের শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবার জন্যই দুধকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে দুধ গরম না ঠান্ডা খাওয়া উচিত—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। কেউ মনে করেন গরম দুধ বেশি উপকারী, আবার কেউ ঠান্ডা দুধকেই ভালো মনে করেন। এ বিষয়ে কলকাতার বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ ঈশানী গঙ্গোপাধ্যায়ের মতে, গরম ও ঠান্ডা দু’ধরনের দুধই শরীরের জন্য উপকারী। তাই সুস্থ ব্যক্তি চাইলে যেকোনো ধরনের দুধ পান করতে পারেন। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ঠান্ডা দুধ বেশি উপকারি হতে পারে।
🔹 পেটের সমস্যা হলে
অনেকেরই দুধ খাওয়ার পর গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা হয়। তাদের জন্য ঠান্ডা দুধ ভালো, কারণ এটি অ্যাসিডিটি প্রতিরোধ করে এবং শরীর সহজেই ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারে।
🔹 গ্রহণের পরিমাণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন সুস্থ মানুষ প্রতিদিন প্রায় ২৫০ মিলিলিটার দুধ পান করতে পারেন। এর মাধ্যমে প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণ হয়। পাশাপাশি দই, ছানা ও পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবারও নিয়মিত খাওয়া উচিত।
🔹 কোন সময় দুধ খাওয়া ভালো?
সকাল, বিকেল বা রাত—যে কোনো সময় দুধ খাওয়া যায়। তবে যাদের অনিদ্রার সমস্যা রয়েছে, তারা রাতে শোবার আগে দুধ খেলে উপকার পাবেন। রাতে দুধ খাওয়ার ফলে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা ভালো ঘুম আনতে সাহায্য করে।



