আজকের ব্যস্ত নগরজীবনে লিফট ও এসকেলেটর এতটাই সাধারণ হয়ে গেছে যে সিঁড়ি ব্যবহারের কথা অনেকে ভাবেন না। অথচ প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করা হতে পারে সবচেয়ে সহজ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর ব্যায়ামগুলোর একটি। নিয়মিত এই অভ্যাস শুধু কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য উন্নত করে না, বরং শরীরের পেশি গঠন, সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও দারুণ ভূমিকা রাখে।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার অন্যতম বড় উপকার হলো এটি একটি ‘ভারবহনকারী ব্যায়াম’, যা পুরো শরীরের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যায়, যা হার্টকে শক্তিশালী করে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। এতে রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি দ্রুত হাঁটা বা জগিংয়ের তুলনায় সিঁড়ি বেয়ে উঠলে প্রতি মিনিটে বেশি ক্যালোরি খরচ হয়, যা চর্বি কমাতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকর।
পেশি শক্তিশালী করতেও সিঁড়ি ওঠা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কোয়াড্রিসেপস, হ্যামস্ট্রিংস ও গ্লুটস—পা ও নিতম্বের প্রধান পেশিগুলো সক্রিয় হয় এবং সময়ের সাথে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে নিয়মিত সিঁড়ি ওঠানামা হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কমায়।
তবে সবার জন্য এ ব্যায়াম উপযোগী নয়। যাদের হাঁটুর ব্যথা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা ঘন ঘন হাঁটুর সমস্যা আছে, তাদের জন্য সিঁড়ি নামার সময় অতিরিক্ত চাপ বিপজ্জনক হতে পারে। গোড়ালি বা পায়ের পাতায় আঘাত থাকলে সিঁড়ি ওঠা এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে আঘাত বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তাছাড়া গুরুতর হৃদরোগ বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা থাকলে সিঁড়ি দ্রুত ওঠার কারণে হার্টে বাড়তি চাপ পড়ে, যা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যাদের ভারসাম্যহীনতা বা মাথা ঘোরা সমস্যা আছে, তাদেরও সিঁড়ি ব্যবহারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকলে ধীরে ধীরে এই অভ্যাস শুরু করা যেতে পারে—প্রথমে দিনে ৫-১০ মিনিট সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করুন, পরে স্বচ্ছন্দবোধ করলে সময় ও গতি বাড়ান। আঘাত এড়াতে অবশ্যই ভালো গ্রিপযুক্ত আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করা জরুরি।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা ক্যালোরি পোড়ানো, হৃদযন্ত্র শক্তিশালী করা এবং পেশি টোন করার একটি কার্যকর ব্যায়াম। তবে হাঁটুর ব্যথা বা হৃদরোগের মতো সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া এটি দীর্ঘসময় বা বেশি তীব্রতায় করা ঠিক নয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস



