২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দীর্ঘ ২১ বছর পর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ঐতিহাসিক এই লড়াইকে কেন্দ্র করে মাঠের উত্তেজনার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য মিরর-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ম্যাচটিকে ‘সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে মার্কিন স্থানীয় প্রশাসন, এফবিআই এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। সম্ভাব্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশেষ এআইভিত্তিক ওয়ার রুমও চালু করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ এবং সমর্থকদের মধ্যে বিদ্যমান আবেগ ও উত্তেজনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উদ্বেগের অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে এফবিআই, ফিফা এবং স্থানীয় পুলিশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি এখনও দুই দেশের জনগণের মধ্যে আলোচিত বিষয় হওয়ায় ম্যাচ ঘিরে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
মাঠের বাইরের উত্তাপ যাতে গ্যালারিতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য দুই দলের সমর্থকদের জন্য পৃথক আসন ব্যবস্থা এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। তবে ম্যাচের আবহ, ফলাফল এবং মাঠের ঘটনাপ্রবাহের ওপর নির্ভর করে দর্শকদের আবেগ কতটা তীব্র হয়ে উঠতে পারে, তা নিয়ে এখনো শঙ্কা রয়েছে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবল লড়াই বরাবরই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণ। ১৯৬৬ ও ২০০২ বিশ্বকাপে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড, আর ১৯৮৬ ও ১৯৯৮ সালে বিজয়ের হাসি হেসেছিল আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
এবারের সেমিফাইনালকে আরও বিশেষ করে তুলেছে আরেকটি বিষয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। ফলে ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ফুটবলীয় রোমাঞ্চ—সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়েছে।



