সম্পর্কের শুরুটা সাধারণত ভরপুর থাকে রোমাঞ্চ, আবেগ আর নতুনত্বে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একে অপরের সঙ্গে স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠা এবং একই রুটিনে আটকে পড়ার কারণে সম্পর্কে একঘেয়েমি ঢুকে পড়তে পারে। তখন অনেকেই অনুভব করেন, আগের সেই উষ্ণতা ও উত্তেজনা আর নেই। এই একঘেয়েমি থেকেই ধীরে ধীরে ভুল বোঝাবুঝি, মনোমালিন্য ও ঝগড়ার জন্ম হয়। মনোবিজ্ঞানী ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ জ্যাকলিন শ্যাটজ মনে করেন, একটি সম্পর্ক সুস্থ ও দৃঢ় রাখতে নিয়মিত সচেতন চেষ্টা অত্যন্ত জরুরি। তার পরামর্শ অনুযায়ী, সম্পর্কের সংঘাত এড়াতে এবং বন্ধনকে মজবুত করতে কার্যকর পাঁচটি উপায় তুলে ধরা হলো।
সম্পর্কে ইতিবাচকতা ধরে রাখতে প্রতিদিন একে অপরের প্রতি প্রশংসা প্রকাশ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বড় আয়োজন বা বিশেষ দিনের অপেক্ষা না করে দৈনন্দিন ছোট মুহূর্তগুলোকে গুরুত্ব দিন। সঙ্গীর কাজ, আচরণ বা যত্নের জন্য আন্তরিকভাবে প্রশংসা করুন। সকালে একসঙ্গে নাশতা করা, রান্নার সময় সারাদিনের গল্প ভাগ করে নেওয়া কিংবা দূরে থাকলে ভিডিও কলে কথা বলা—এই ছোট অভ্যাসগুলোই ধীরে ধীরে সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে।
একঘেয়ে জীবনযাপন সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে। কাজের চাপ আর একই রুটিনে আটকে থাকলে সম্পর্কের উত্তেজনা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই মাঝে মাঝে একসঙ্গে ঘুরতে বেরোন। ডেটিং ও সম্পর্ক প্রশিক্ষক মেগান ওয়েক্সের মতে, পরিচিত গণ্ডি ভেঙে নতুন জায়গায় ভ্রমণ সম্পর্ককে নতুন প্রাণ দেয়। নতুন অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি দুজনের মধ্যকার বন্ধনকে আবার চাঙা করে তোলে।
সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে দুজনেরই পছন্দের কোনো কাজ একসঙ্গে করা জরুরি। সেটা হাঁটা, ব্যায়াম, ভ্রমণ, গান শোনা কিংবা কনসার্টে যাওয়া—যাই হোক না কেন, কাজটির ধরন নয়, বরং দুজনের আনন্দটাই মুখ্য। জ্যাকলিন শ্যাটজের মতে, যে কাজ দুজনেই মন থেকে উপভোগ করেন, সেটাই সম্পর্কের সবচেয়ে সুন্দর ও মূল্যবান স্মৃতি তৈরি করে।
একটি সুস্থ সম্পর্কের জন্য নিজের মানসিক উন্নয়ন ও আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। মানুষ ও পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে বদলায়, তাই আগের মতো করে সব সমস্যা সমাধান নাও হতে পারে। নিজেকে বোঝা, নিজের চাহিদা ও সীমাবদ্ধতা জানা এবং নিজের যত্ন নেওয়া একজন ভালো সঙ্গী হয়ে উঠতে সাহায্য করে। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেকে যত ভালোভাবে বুঝবেন, অন্যকে ভালোবাসাও তত সহজ হবে।
মতবিরোধ বা ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঝগড়া হতেই পারে, তবে রাগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাগের বশে বলা কথা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে এবং সম্পর্কের ক্ষতি করে। তাই বিরোধের সময় শান্ত থাকার চেষ্টা করুন, আবেগের পরিবর্তে যুক্তি ও সহানুভূতির মাধ্যমে কথা বলুন। এতে সমস্যার সমাধান সহজ হবে এবং সম্পর্কও থাকবে নিরাপদ ও সুন্দর।
সূত্র: আজতক বাংলা



