চট্টগ্রামের ষোলশহর এলাকায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মানবতার এক অনন্য ও করুণ নজির স্থাপিত হয়েছে। কক্সবাজারগামী ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ ট্রেনের নিচে পড়তে যাওয়া ১০ বছরের শিশু রাহাতকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী দেলোয়ার হোসেন মিন্টু।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের তথ্যানুযায়ী, ঘটনার সময় ওই এলাকায় সড়ক মেরামতের কাজ চলছিল। রাস্তা বন্ধ বা চলাচলের অনুপযোগী থাকায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে রেললাইনের পাশ দিয়েই যাতায়াত করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসছিল কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস। ১০ বছরের শিশু রাহাতকে ট্রেনের লাইনে বিপদের মুখে দেখে এক মুহূর্তও দেরি করেননি দেলোয়ার হোসেন মিন্টু। নিজের জীবনের পরোয়া না করে তিনি শিশুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে যান।
তিনি শিশু রাহাতকে মৃত্যুর হাত থেকে টেনে বের করতে পারলেও নিজে ট্রেনের ধাক্কা থেকে বাঁচতে পারেননি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান এই সাহসী ও দয়ালু মানুষটি। অন্যদিকে, শিশু রাহাত অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও তার ডান হাত ও ডান পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কাটা পড়ে। বর্তমানে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনা একদিকে যেমন দেলোয়ার হোসেন মিন্টুর আত্মত্যাগের এক মহান দৃষ্টান্ত তুলে ধরে, অন্যদিকে সড়ক মেরামত কাজের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিকল্প চলাচলের পথ না থাকার ঝুঁকিকেও সামনে নিয়ে এসেছে। রেললাইনের মতো বিপজ্জনক স্থানে পথচারীদের চলাচলে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি সবাইকে গভীরভাবে চিন্তিত করে তুলেছে।
দেলোয়ার হোসেন মিন্টুর এই অসীম সাহস ও আত্মত্যাগ চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।



