
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বা অধ্যক্ষ হওয়া যেকোনো শিক্ষকের জন্যই অত্যন্ত সম্মানজনক। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা বোর্ডের নাম শুনলেই অনেকের মনেই কাজ করে অজানা এক ভয় । বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইভা বোর্ডে শুধু প্রার্থীর বইয়ের জ্ঞান যাচাই করা হয় না, বরং তাঁর আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও আচরণই হয়ে ওঠে সফলতার প্রধান চাবিকাঠি ।
প্রথমেই আসা যাক পরিপাটি উপস্থিতির কথায়। ভাইভায় যাওয়ার সময় সব কাগজপত্রের মূল কপি একটি আনুষ্ঠানিক বা অফিশিয়াল ব্যাগে রাখা উচিত, শিক্ষার্থীদের মতো সাধারণ ফাইলে নয়। পোশাক হতে হবে অত্যন্ত মার্জিত ও হালকা রঙের। অতিরিক্ত গয়না, কালো চশমা কিংবা হাঁটার সময় শব্দ হয় এমন জুতো এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ । মানসিক চাপ বা নার্ভাসনেস কমাতে পরীক্ষার অন্তত এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার চমৎকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা ।
বোর্ডের ভেতরে প্রবেশের পর আচরণের ক্ষেত্রেও চাই সর্বোচ্চ সতর্কতা। বসার অনুমতি পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে বসতে হবে; পায়ের ওপর পা তুলে বা টেবিলের ওপর ভর দিয়ে বসা মোটেও শোভন নয়। কথা বলার সময় বারবার নাক বা চশমা ধরা, হাত কচলানো বা পা দোলানোর মতো মুদ্রাদোষগুলো সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে, কারণ এগুলো প্রার্থীর দুর্বল ব্যক্তিত্বের প্রকাশ ঘটায় ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ধরন। কোনো প্রশ্নের উত্তর জানা না থাকলে ভুলভাল বা বানিয়ে বলার চেষ্টা না করে, অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে সরাসরি ‘জানা নেই’ বলাই উত্তম । এতে প্রার্থীর সততা প্রকাশ পায়। এছাড়া, যে ভাষায় প্রশ্ন করা হবে (বাংলা বা ইংরেজি), উত্তরও ঠিক সেই ভাষাতেই দেওয়া উচিত।
সবশেষে একটি কথা সব সময় মাথায় রাখতে হবে, আপনি সেখানে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে যাননি, বরং একটি আস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়ার জন্য পরীক্ষা দিচ্ছেন । তাই আপনার প্রতিটি কথায়, যুক্তিতে এবং আচরণে একজন আত্মবিশ্বাসী ও সৎ নেতার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠাই সবচেয়ে বেশি জরুরি !


