নাস্তার টেবিলে আপেল দেখলে অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসে—লালটা ভালো, না সবুজটা? আপেল যে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তা সবারই জানা। তবে বাজারে পাওয়া এই দুই ধরনের আপেলের পুষ্টিগুণে কিছুটা পার্থক্য আছে, বিশেষ করে হজম ও পেটের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে।
🍏 সবুজ আপেল : টক স্বাদ, কম চিনি, বেশি ফাইবার
সবুজ আপেল, বিশেষত গ্র্যানি স্মিথ জাতের, টক স্বাদের হয়। এতে চিনি তুলনামূলক কম এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ায়।
সবুজ আপেলে প্রচুর পেকটিন ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, মলত্যাগ সহজ করে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে। এছাড়া এতে থাকা পলিফেনল প্রদাহ কমায় এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে পেটকে সুরক্ষা দেয়।
🍎 লাল আপেল : মিষ্টি স্বাদ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর
লাল আপেল যেমন ফুজি বা রেড ডেলিশিয়াস, সাধারণত মিষ্টি স্বাদের হয়ে থাকে। এর খোসায় থাকে অ্যান্থোসায়ানিন, যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে শরীরের কোষকে রক্ষা করে। এটি পেট ও হৃৎপিণ্ডের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
যদিও লাল আপেলে সবুজের তুলনায় ফাইবার কিছুটা কম, তবে এতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় উভয় ধরনের ফাইবারই থাকে, যা হজম ভালো রাখে ও মলত্যাগ স্বাভাবিক করে।
কোনটা বেছে নেবেন?
আসলে দুটি আপেলই স্বাস্থ্যকর। তবে যারা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করছেন বা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্য সবুজ আপেল কিছুটা বেশি উপকারী—কারণ এতে চিনি কম এবং ফাইবার বেশি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আপেলের খোসা ফেলবেন না। খোসাতেই থাকে সবচেয়ে বেশি ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টিগুণ। তাই লাল হোক বা সবুজ—খোসাসহ আপেল খাওয়াই সুস্থ থাকার সহজতম উপায়।
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



