ব্যায়ামের পর পেশিতে ব্যথা হওয়া বা সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়াকে আমরা সাধারণ ক্লান্তি মনে করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীর ও মন বিশ্রাম চাইছে কি না তা বোঝার আরও সূক্ষ্ম কিছু লক্ষণ রয়েছে। কঠোর পরিশ্রম বা শরীরচর্চার পর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের (Recovery) সময় না দিলে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত হয় না, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে দুর্বল করে দেয়। শরীর যখন অতিরিক্ত চাপে থাকে, তখন সে নিজেই কিছু সংকেত দেয় যা এড়িয়ে যাওয়া চোটের কারণ হতে পারে।
কিভাবে বুঝবেন শরীর ক্লান্ত? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্রাম অবস্থাতেও যদি হৃদস্পন্দন (Heart Rate) স্বাভাবিকের চেয়ে মিনিটে ৫ বা তার বেশি বিট বেড়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে শরীর দৈনন্দিন কাজ করতেই হিমশিম খাচ্ছে। এছাড়া আগে যে ব্যায়াম বা দৌড় সহজ লাগত, তা যদি হঠাৎ খুব কষ্টকর মনে হয়, তবে তা স্নায়ুতন্ত্রের ক্লান্তির বহিঃপ্রকাশ। অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফলে ঘুমের সমস্যা হওয়া, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া কিংবা ব্যায়ামের প্রতি তীব্র অনীহা তৈরি হওয়াও বিশ্রামের বড় সংকেত। এমনকি পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে পেশিতে হঠাৎ টান বা ক্র্যাম্প ধরার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়।
প্রতিকারের উপায়: এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে শরীরকে পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, এ সময় কয়েক দিনের জন্য ব্যায়ামের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া বা ‘ডি-লোড’ সপ্তাহে অভ্যস্ত হওয়া ভালো। কঠোর ব্যায়ামের বদলে হালকা হাঁটা, যোগব্যায়াম, স্ট্রেচিং বা উষ্ণ পানিতে গোসল শরীরকে দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। মনে রাখতে হবে, সত্যিকারের ফিটনেস মানে কেবল নিজেকে চাপে রাখা নয়, বরং নিজের শরীরের সীমাবদ্ধতা বুঝে সঠিক সময়ে বিরতি নেওয়া। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে শুধু চোটের ঝুঁকিই কমে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে কর্মক্ষমতাও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।



