বর্তমানে থাইরয়েড একটি গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এ রোগে আক্রান্ত হলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, চুল অকালেই ঝরে যায় এবং ত্বক হারায় উজ্জ্বলতা। অনেকেই থাইরয়েডের ওষুধ খেতে শুরু করেন, তবে শুধুমাত্র ওষুধে রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নাও থাকতে পারে। কারণ কিছু খাবার রয়েছে যা থাইরয়েডের সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে।
থাইরয়েড গ্রন্থি আমাদের শ্বাসনালির সামনের দিকে অবস্থিত এবং এটি থেকে টি-থ্রি (T3) ও টি-ফোর (T4) নামে দুটি হরমোন নিঃসরিত হয়। রক্তে এই হরমোনের মাত্রা সঠিকভাবে না থাকলে দুই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়—
হাইপারথাইরয়েডিজম: হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।
হাইপোথাইরয়েডিজম: হরমোনের পরিমাণ কমে যাওয়া।
থাইরয়েডের সমস্যায় ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, গরমেও শীত অনুভব, হৃদ্স্পন্দন কমে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিছু খাবার এ সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যেমন—
সয়াবিন ও সয়াজাতীয় খাবার: যেমন সয়ার দুধ, টফু ইত্যাদি—এগুলো থাইরয়েডের ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
বাঁধাকপি ও ফুলকপি: ওজন কমানোর জন্য অনেকে খেয়ে থাকেন, তবে থাইরয়েড থাকলে এগুলো এড়িয়ে চলা ভালো।
কফি: অতিরিক্ত ক্যাফেইন থাইরয়েড রোগীর জন্য ক্ষতিকর, তাই সকালে সীমিত পরিমাণে কফি খাওয়া ভালো।
মিষ্টি: চিনি-সমৃদ্ধ খাবার বাদ দিয়ে বিকল্প হিসেবে গুড় বা মধু ব্যবহার করা ভালো।
প্যাকেটজাত খাবার: এসব খাবারে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও তেল থাকে, যা এড়িয়ে চলা উচিত।
দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, মাখন, চিজ ইত্যাদি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
পাউরুটি, পাস্তা ও ফাস্ট ফুড: এগুলো থাইরয়েডের সমস্যা বাড়াতে পারে, তাই খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া ভালো।
তাই সুস্থ থাকতে হলে থাইরয়েড সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব খাবার যতটা সম্ভব ডায়েট থেকে বাদ দেওয়া উচিত।



