উঁচু পাহাড়, বরফে ঢাকা পথ, মাউন্ট কৈলাস আর বিশ্ববিখ্যাত মাউন্ট এভারেস্ট—সব মিলিয়ে তিব্বত যেন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক স্বপ্নের গন্তব্য । কিন্তু এই মেঘের দেশে যাওয়ার পথ কি এতটাই সহজ? না, তিব্বত ভ্রমণে রয়েছে বেশ কিছু কড়া নিয়ম আর প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ।
প্রথমেই বলে রাখা ভালো, শুধু পাসপোর্ট আর টিকিট হাতে থাকলেই তিব্বতে যাওয়া যায় না। পর্যটকদের সবার আগে চীনের ট্যুরিস্ট ভিসা নিতে হবে]। এরপর অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে চীনা সরকারের কাছ থেকে বিশেষ ‘ট্রাভেল পারমিট’ জোগাড় করতে হবে । ঢাকা থেকে কুনমিং হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেলপথ ‘ছিংহাই-তিব্বত’ দিয়ে রাজধানী লাসায় যাওয়ার অভিজ্ঞতা হতে পারে আপনার জীবনের সেরা এক রোমাঞ্চ । ১০ দিনের একটি সাধারণ ট্যুর প্যাকেজে আপনার খরচ হতে পারে প্রায় ১ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার বা দেড় লাখ টাকার মতো ।
তবে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এখানকার আসল চ্যালেঞ্জ লুকিয়ে আছে প্রকৃতিতে! সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে লাসার উচ্চতা প্রায় ৩ হাজার ৬৫০ মিটার হওয়ায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ বেশ কম থাকে । উচ্চতাজনিত অসুস্থতা বা ‘মাউন্টেন সিকনেস’ থেকে বাঁচতে পৌঁছানোর পর প্রথম দুই দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রচুর পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি । এর পাশাপাশি একই দিনে কড়া রোদ থেকে হঠাৎ কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও তুষারপাত—এমন অদ্ভুত এবং পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার জন্যও পর্যটকদের প্রস্তুত থাকতে হয় ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিব্বতে আপনি চাইলেই একা একা স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারবেন না; সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পর্যটকদের সাথে একজন অনুমোদিত গাইড থাকা একেবারে বাধ্যতামূলক এবং নির্ধারিত রুট মেনেই চলতে হয় । এছাড়া, রাজধানীর বাইরে ডিজিটাল পেমেন্ট খুব একটা চলে না বলে নগদ টাকা সাথে রাখা নিরাপদ । সেখানকার ইন্টারনেট ব্যবস্থাও বেশ দুর্বল ।
তিব্বতিদের নিজস্ব ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে যদি আপনি এই ভূখণ্ডে পা রাখেন, তবে এই ভ্রমণ হয়ে উঠতে পারে আপনার জীবনের অন্যতম সেরা এক আত্মিক অভিজ্ঞতা !



