মিয়ানমারের সামরিক সরকার দেশজুড়ে চলমান জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও জানিয়েছে তারা। তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমআরটিভির বরাতে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের তত্ত্বাবধান করবেন বর্তমান সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং, যিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। তার নেতৃত্বে একটি ১১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর এটি হবে প্রথম জাতীয় নির্বাচন। অভ্যুত্থানে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন এনএলডি সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে সামরিক জান্তা। তারা দাবি করে, ২০২০ সালের নির্বাচন ছিল জালিয়াতিপূর্ণ।
নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের প্রতিবাদ, সমালোচনা বা বিঘ্ন সৃষ্টিকারী কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করার লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে জান্তা সরকার। “Protection of Multiparty Democratic Election from Obstruction, Disruption and Destruction” নামক আইনটি গত ২৯ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে।
এই আইনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, লিফলেট বিতরণ, প্রতিবাদ বা সমালোচনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ব্যক্তিগতভাবে কেউ অপরাধ করলে সর্বনিম্ন ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। কোনো সংগঠন এ ধরনের কাজ করলে শাস্তি হবে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড।
এছাড়া, নির্বাচনী ব্যালট পেপার নষ্ট করা, ভোটার বা কর্মকর্তাদের ভয় দেখানো, কিংবা ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণহানি ঘটলে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এনএলডির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে অনেকে এখনও কারাগারে বন্দি আছেন।



