রাতের ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে কারও মুখে হাসি ফোটে—এমন দৃশ্য অনেকেরই চোখে পড়েছে। দেখতে মজার লাগলেও এর পেছনে থাকতে পারে শারীরিক বা মানসিক নানা কারণ। ছোট শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও এই ঘটনা ঘটতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক হলেও, কখনো কখনো এটি কোনো জটিল সমস্যারও সংকেত হতে পারে।
ঘুমের মধ্যে হাসির সাধারণ কারণ
স্বপ্ন দেখা: ঘুমের REM (র্যাপিড আই মুভমেন্ট) পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি স্বপ্ন দেখা হয়। স্বপ্নে যদি আনন্দদায়ক বা মজার কিছু ঘটে, তখন মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে হাসির প্রতিক্রিয়া পাঠায়, ফলে মানুষ ঘুমিয়েই হেসে ওঠে।
প্যারাসমনিয়া (ঘুমের অস্বাভাবিক আচরণ): এ ধরনের ঘুমের সমস্যায় কেউ হাঁটে, কথা বলে বা হঠাৎ হেসে ওঠে। বিশেষ করে REM ঘুমে শরীর পুরোপুরি শিথিল না হলে এ ধরনের আচরণ দেখা যায়।
স্নায়ুবিক সমস্যা: পারকিনসনস ডিজিজ, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস বা ব্রেন টিউমারের মতো রোগের কারণে মস্তিষ্ক অস্বাভাবিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। এ অবস্থায় স্বপ্ন ছাড়াই হঠাৎ ঘুমের মধ্যে হাসি আসতে পারে।
জেলাস্টিক সিজার (হাসির খিঁচুনি): এটি এক ধরনের বিরল মৃগী, যেখানে হঠাৎ অকারণে হাসির খিঁচুনি হয়, এমনকি ঘুমের মধ্যেও। সাধারণত মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস বা টেম্পোরাল লোবের সমস্যার কারণে এটি ঘটে।
মানসিক চাপ বা উদ্বেগ: যারা দীর্ঘদিন মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা ট্রমার মধ্যে থাকেন, তাদের ঘুমে অস্বাভাবিক স্বপ্ন হতে পারে, যার প্রতিক্রিয়ায় হেসে ওঠা দেখা যায়।
শিশুরা কেন ঘুমিয়ে হাসে?
শিশুরা ঘুমের মধ্যে বেশি সময় REM পর্যায়ে থাকে। তাদের মস্তিষ্ক তখন দ্রুত বিকাশ লাভ করছে। এ কারণেই শিশুদের ঘুমিয়ে হাসা একেবারেই স্বাভাবিক। তবে যদি এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট বা খিঁচুনির মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কবে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি?
ঘন ঘন ঘুমিয়ে হাসা
অনেকক্ষণ ধরে অকারণে হাসতে থাকা
ঘুমের মধ্যে হাত-পা ছোঁড়া বা অস্বাভাবিক আচরণ
শ্বাস-প্রশ্বাসে অস্বাভাবিকতা বা খিঁচুনি
করণীয় ও চিকিৎসা
চিকিৎসা নির্ভর করবে আসল কারণের ওপর।
জেলাস্টিক সিজার হলে দেওয়া হয় অ্যান্টি-সিজার ওষুধ।
মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থাকলে কার্যকর হতে পারে কাউন্সেলিং বা থেরাপি (CBT, সাইকোথেরাপি)।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন:
নিয়মিত ঘুমের রুটিন মেনে চলা
রাতে ক্যাফেইন বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা
অধিকাংশ সময় ঘুমিয়ে হেসে ওঠা নিরীহ এবং স্বাভাবিক একটি বিষয়। তবে যদি এটি নিয়মিত ঘটে বা এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সচেতনতা মানেই সুস্থ জীবন।



