বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ১৯৯০ সালে যেখানে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ কোটি, সেখানে ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৩ কোটি। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি।
চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তারা প্রি-ডায়াবেটিস পর্যায়ে আছেন—অর্থাৎ এমন এক অবস্থায়, যা সময়মতো নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা পূর্ণ ডায়াবেটিসে পরিণত হতে পারে। তবে সুখবর হলো, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন অনুসরণ করলে মাত্র ২১ দিনেই এই অবস্থা থেকে মুক্তি সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রোটিন-সমৃদ্ধ জলখাবার খাওয়ার অভ্যাস রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রোটিন হজম হতে সময় নেয়, ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং অযথা খাবার বা মিষ্টির প্রতি আগ্রহ কমে যায়। এতে দিনের পরবর্তী সময়ে গ্লুকোজ স্পাইক হওয়ার আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
তাছাড়া, প্রতিটি খাবারের পর মাত্র ১০ মিনিট হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। কারণ, হাঁটার সময় শরীর গ্লুকোজ ব্যবহার করে, যা খাবারের পরের ব্লাড সুগার বৃদ্ধিকে প্রতিরোধ করে। ২০২৫ সালের একটি র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোল ট্রায়াল গবেষণাতেও এ তথ্যের প্রমাণ মিলেছে।
খাবার খাওয়ার ক্রম নিয়েও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথমে সবজি, এরপর প্রোটিন, আর সবশেষে কার্বোহাইড্রেট খাওয়া উচিত। এতে শরীর ধীরে ধীরে শর্করা শোষণ করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।
তবে শুধু খাওয়ার ক্রম নয়, কী খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সাদা চাল, সাদা রুটি বা ময়দার তৈরি খাবার বাদ দিয়ে বেছে নিন ফাইবারসমৃদ্ধ শস্য যেমন ওটস, বাজরা বা কুইনোয়া। এগুলো ধীরে হজম হয়, দীর্ঘ সময় তৃপ্ত রাখে এবং হঠাৎ করে ব্লাড সুগার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস


