নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে পূর্বের নির্দেশনা সংশোধন করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটার, প্রার্থী, সাংবাদিক ও দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন এবং কেন্দ্রের ভেতরে ছবি তুলতে পারবেন। তবে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার্থে গোপন কক্ষের ভেতরে ছবি তোলা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এই বিধিনিষেধ মূলত পোলিং এজেন্ট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, মোবাইল ফোন ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। লিখিতভাবে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা না যাওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যা এখন সংশোধন করা হয়েছে। মোবাইল ব্যবহারে কিছু সীমিত বিধিনিষেধ থাকবে, তবে তা ফিল্টার করে স্পষ্টভাবে জানানো হবে।
ইসি সচিব জানান, এবারের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। মোট ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, পাকিস্তান ও জর্জিয়া থেকে ৬০ জন সাংবাদিক-পর্যবেক্ষক রয়েছেন। পাশাপাশি আল জাজিরা, রয়টার্স, ডয়েচে ভেলে ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) থেকেও সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ২২৩ জন, কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন এবং আইআরআই থেকে ১২ জন পর্যবেক্ষক অংশ নিচ্ছেন।
ব্যালট সংক্রান্ত কিছু কারিগরি সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন আখতার আহমেদ। তিনি জানান, বরগুনার একটি ব্যালটে ত্রুটি ছিল এবং ফরিদপুর-১ আসনের ব্যালট সংশোধন করতে হয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে নির্বাচন প্রস্তুতি সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং সবাই ভোট দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, ফল দেরিতে ঘোষণার কোনো অযৌক্তিক কারণ নেই। ব্যালট গণনায় সময় লাগাকে বিলম্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আর বেশি সময় বাকি নেই এবং আগামীকাল সকাল থেকে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন প্রচার অব্যাহত না থাকে, সে জন্য ডিজিটাল প্রচারণা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইসি সচিব বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং বড় ধরনের কোনো সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে দুটি প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। আচরণবিধি লঙ্ঘন বা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে যেকোনো অভিযোগ নির্বাচন কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান। তার ভাষায়, মিছিল-মিটিংয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ, তবে এখন পর্যন্ত সেগুলো শালীনতার মধ্যেই রয়েছে।



