স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে চিকিৎসাসেবার মান এবং নিয়ম-নীতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সম্প্রতি ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘হেলথ রেভোল্যুশন লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে এক ডায়াবেটিস রোগীর অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে মৃত্যুর গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার সঠিক কারণ উদ্ঘাটন এবং দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের দেওয়া অভিযোগপত্রের তথ্যানুযায়ী, ৩৬ বছর বয়সী সুমি বেগম নামীয় এক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে হেলথ রেভোল্যুশন লিমিটেডে যান। সেখানে তাকে জীবনরক্ষাকারী ইনসুলিন এবং নিয়মিত ডায়াবেটিসের সমস্ত ওষুধ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিবর্তে তাকে কঠোর কিটো ডায়েট অনুসরণ করা এবং অননুমোদিত বিভিন্ন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরামর্শ প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনাহীন এই পরামর্শ অনুসরণের ফলে সুমি বেগমের রক্তে শর্করার মাত্রা চরম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ‘ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস’-এ আক্রান্ত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হুট করে ইনসুলিন বন্ধ করে দেওয়া একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য মারাত্মক জীবনঘাতী হতে পারে। ঘটনাটির সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে গঠিত এই কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



