ডিমকে বলা হয় প্রকৃতির ‘সুপারফুড’। উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ডি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ এই খাবারটি আমাদের পেশি ও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের পূর্ণ গুণাগুণ পেতে হলে এটি সঠিক খাবারের সঙ্গে খাওয়া জরুরি। ভুল খাবারের সংমিশ্রণে ডিম খেলে শরীরের পুষ্টি শোষণে বাধা তৈরি হতে পারে এবং হজমে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিমের সঙ্গে অন্তত ৫টি খাবার এড়িয়ে চলা স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গলজনক।
বর্জনীয় খাবারসমূহ: প্রথমত, ডিমের সঙ্গে সয়া দুধ পান করা ঠিক নয়; এতে শরীরে অতিরিক্ত প্রোটিন জমা হয়ে হজম প্রক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টি করে। দ্বিতীয়ত, সকালের নাশতায় ডিম ও চা অনেকের পছন্দ হলেও এটি ক্ষতিকর। চায়ের পলিফেনল ডিমের প্রোটিন শোষণে প্রায় ১৫-২০ শতাংশ বাধা দেয় এবং গ্যাসের সমস্যা তৈরি করে। তৃতীয়ত, ডিমের সাথে চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করে এবং হজমে গোলযোগ ঘটায়। চতুর্থত, কলা ও ডিম একসঙ্গে খেলে পেট ভারী হওয়া বা অলস ভাব দেখা দিতে পারে, কারণ দুটি খাবারই হজম হতে দীর্ঘ সময় নেয়। সবশেষে, ডিম ও মাংস দুটোই উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় একসঙ্গে খেলে পরিপাকতন্ত্রে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং ক্লান্তি অনুভূত হয়।
ডিমের পুষ্টিগুণ পুরোপুরি কাজে লাগাতে এর সঙ্গে হালকা শাকসবজি বা শস্যজাতীয় খাবার রাখা বেশি উপযোগী। বিশেষ করে চা বা কফি পান করতে চাইলে ডিম খাওয়ার অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট পর পান করা নিরাপদ। সুস্থ থাকতে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে খাদ্যতালিকায় এই ছোট পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি। সচেতনভাবে সঠিক খাবারের সমন্বয়ই আপনাকে ডিমের প্রকৃত স্বাস্থ্যগুণ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।



