যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫% শুল্ক আরোপ করেছেন। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশ, যা বাংলাদেশের চেয়ে ৩০ শতাংশ এবং চীনের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। পাকিস্তানের তুলনায় এ হার ২১ শতাংশ বেশি। ট্রাম্প এর আগে অন্তত ৯০টি দেশের জন্য নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেন, যেখানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দর-কষাকষির মাধ্যমে শুল্ক ৩৫% থেকে কমিয়ে ২০% নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তান সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, যার শুল্ক হার মাত্র ১৯%।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ তালিকায় দেখা যায়, ভারত সবচেয়ে বেশি শুল্কের মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করায় ভারতের উপর চাপ আরও বেড়েছে।
এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত সুযোগ এনে দিতে পারে, বিশেষ করে পোশাক খাতে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় তৈরি পোশাক আমদানিকারক দেশ, যেখানে বাংলাদেশ ও ভারত দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিযোগিতা করছে। এখন ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের কম শুল্ক সুবিধা রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে পারে। ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নতুন শুল্কব্যবস্থায় ভারতের রপ্তানি ব্যাহত হলে বাংলাদেশের জন্য মার্কিন বাজারে শেয়ার বৃদ্ধির পথ উন্মুক্ত হতে পারে।
এশিয়ার অন্যান্য দেশ যেমন ভিয়েতনাম (২০%), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন (প্রতিটি ১৯%)-ও ভারতের তুলনায় কম শুল্ক পাচ্ছে। ফলে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজারে ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার অনুকূল শুল্ক কাঠামো ভারতের নন-লেদার জুতা এবং ইলেকট্রনিকস খাতের জন্য হুমকি হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন বাজারে যত কম শুল্ক, তত বেশি প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা সম্ভব। ভারতীয় তৈরি পোশাক, চামড়া ও জুতা খাত শুল্কবৃদ্ধির ফলে সংকটে পড়তে পারে। বিপরীতে, বাংলাদেশের জন্য এটি রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষত, যদি মার্কিন খুচরা বিক্রেতারা কম শুল্কের কারণে ভারতীয় পণ্যের পরিবর্তে বাংলাদেশের পণ্য পছন্দ করা শুরু করেন, তাহলে বাংলাদেশের মার্কিন বাজারে অংশীদারিত্ব দ্রুত বাড়তে পারে।
এদিকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচনা বর্তমানে কৃষিপণ্য ও গাড়ি আমদানি নিয়ে থমকে আছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ভারত যেন জিএম ভুট্টা, সয়াবিনসহ কৃষিপণ্যের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং মার্কিন দুগ্ধ ও কৃষিপণ্য আমদানির অনুমতি দেয়। কিন্তু ভারতের কৃষি-নির্ভর রাজনীতি ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এটি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
সার্বিকভাবে, বর্তমান শুল্কনীতি ভারতের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধা তৈরি করলেও, বাংলাদেশের জন্য এটি রপ্তানি বাজারে এগিয়ে যাওয়ার একটি অনন্য সুযোগ। তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা, মান নিয়ন্ত্রণ ও লজিস্টিক অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি, যেন চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মার্কিন বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়।



