হাই তোলা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খুবই সাধারণ একটি শারীরিক প্রতিক্রিয়া। ক্লান্তি, বিরক্তি, মনোযোগের ঘাটতি কিংবা ঘুম কম হলে হাই উঠতে পারে। কিন্তু যদি সারাদিন বারবার হাই উঠতে থাকে, তাহলে সেটিকে শুধু ক্লান্তি বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। এটি হতে পারে ঘুমের সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
হাই তোলা আসলে কী? এটি একটি স্বাভাবিক শ্বাসপ্রক্রিয়া—যেখানে আমরা মুখ বড় করে হাঁ করি, গভীরভাবে শ্বাস নিই এবং ধীরে নিঃশ্বাস ছাড়ি। এর মাধ্যমে শরীর নিজের ফ্রেশনেস ধরে রাখার চেষ্টা করে। সাধারণভাবে হাই উঠা উদ্বেগের কিছু নয়, তবে ঘন ঘন হাই উঠলে তা আমাদের ঘুমের স্বাস্থ্যের ওপর চোখ রাখতে বলে।
ঘন ঘন হাই ওঠা ও ঘুমের সমস্যা
১. স্লিপ অ্যাপনিয়া (Sleep Apnea):
এই রোগে ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ঘুম ভেঙে যায় বারবার। এতে গভীর ঘুম হয় না, আর তার পরিণতিতে সারা দিনে হাই উঠতে থাকে। সাধারণ লক্ষণ হলো: জোরে নাক ডাকা, হঠাৎ ঘুম ভেঙে শ্বাস আটকে যাওয়া, সারাদিন ঝিম ধরা।
২. অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়া (Insomnia):
ঘুম আসতে দেরি হওয়া বা ঘন ঘন ঘুম ভেঙে যাওয়া অনিদ্রার লক্ষণ। এতে শরীর পরিপূর্ণ বিশ্রাম পায় না, মাথা ঝিমঝিম করে ও সারাদিন হাই উঠতে থাকে।
৩. নারকোলেপসি (Narcolepsy):
এটি একটি স্নায়ুবিক রোগ, যেখানে হঠাৎ করে ঘুম চলে আসে। এর ফলে সারাদিন হাই ওঠে এবং দুর্বলতা অনুভব হয়।
৪. রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম:
রাতে পায়ে অস্বস্তি বা কাঁপাকাঁপির কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে দিনের বেলায় ক্লান্তি ও ঘন ঘন হাই দেখা দেয়।
অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ
ঘন হাই ওঠা সবসময় ঘুমের সমস্যার কারণে হয় না। এর পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে যেমন:
মানসিক চাপ বা উদ্বেগ
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন)
স্নায়ুর সমস্যা, যেমন পারকিনসন বা মাইগ্রেন
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন কবে?
আপনি যদি লক্ষ্য করেন—
সারাদিন বারবার হাই উঠছে
ভালো ঘুমের পরেও ক্লান্ত লাগে
কাজে মনোযোগ ধরে রাখা যাচ্ছে না
ঘুমের সময় নাক ডাকা বা শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে
তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি প্রয়োজনে ঘুম সম্পর্কিত পরীক্ষা করতে পারেন।
ভালো ঘুমের জন্য কিছু টিপস
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান ও ঘুম থেকে উঠুন
রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টিভি ব্যবহার কমান
ক্যাফেইন, চা বা কফি ঘুমানোর আগে খাবেন না
শোবার ঘর শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখুন
হালকা ব্যায়াম করুন, তবে ঘুমানোর সময়ের কাছাকাছি নয়
কিছু মজার তথ্য
শুধু মানুষ নয়, কুকুর, বিড়াল এমনকি মাছও হাই তোলে!
হাই সংক্রামক—অন্যকে হাই তুলতে দেখলে আমাদেরও হাই ওঠে।
গর্ভবতী মায়ের পেটেও শিশু হাই তোলে—আল্ট্রাসাউন্ডে এটি প্রমাণিত!
কিছু গবেষক মনে করেন, হাই মস্তিষ্ক ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
সবশেষে বলা যায়, হাই তোলা স্বাভাবিক হলেও যদি এটি অতিরিক্ত হয়, তাহলে সেটিকে গুরুত্ব দিন। এটি আপনার ঘুমজনিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। সঠিক ঘুম মানেই ভালো স্বাস্থ্য—তাই হাই উঠলে শুধু মুখ ঢাকবেন না, বরং বোঝার চেষ্টা করুন, শরীর কী বলছে।



