ভর্তা বাঙালি সংস্কৃতির একটি জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবার। এর মধ্যে কাঁঠাল বিচির ভর্তা স্বাদ ও পুষ্টিগুণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মৌসুমি ফল কাঁঠাল খাওয়ার পর অনেকেই এর বিচি ফেলে দেন। অথচ এই বিচি দিয়ে তৈরি ভর্তা শুধু সুস্বাদু নয়, বরং স্বাস্থ্যকরও বটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁঠালের বিচি নিয়মিত খেলে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাই বৃষ্টির দিনে গরম ভাতের সাথে এক বাটি কাঁঠাল বিচির ভর্তা হতে পারে পরিপূর্ণ এক পরম স্বাদ ও পুষ্টির উৎস।
বৃষ্টির দিনে হজমে সহায়ক
বর্ষাকালে অনেকেই হজমের সমস্যায় ভোগেন। কাঁঠালের বিচিতে থাকা উপাদান হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং হজম দ্রুত হয়। তাই এই মৌসুমে কাঁঠাল বিচির ভর্তা খাওয়ার উপকারিতা আরও বাড়ে। দুপুরের খাবারে দ্রুত ও সহজে প্রস্তুত এই ভর্তা হতে পারে রুচিবর্ধক ও হজমবান্ধব একটি খাবার।
রেসিপি: কাঁঠাল বিচির ভর্তা
এই ভর্তা তৈরির জন্য বেশি উপকরণের প্রয়োজন হয় না। মাত্র কয়েকটি উপাদানেই তৈরি করা যায় সুস্বাদু ও পুষ্টিকর একটি পদ।
প্রয়োজনীয় উপকরণ:
কাঁঠাল বিচি ৩০টি
পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ
কাঁচা মরিচ কুচি ১ চা চামচ
ধনে পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ
সরিষা তেল ও লবণ পরিমাণমতো
প্রস্তুত প্রণালি:
প্রথমে কাঁঠাল বিচিগুলো ভালো করে সিদ্ধ করুন। ঠান্ডা করে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এবার একটি বড় পাত্রে বিচিগুলো থেতো করে নিন। এরপর একটি প্যানে সরিষা তেল গরম করে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা বাদামি করে ভাজুন। এরপর কাঁচা মরিচ, ধনে পাতা কুচি ও লবণ দিন। সব উপকরণ মিশে গেলে থেতো করা বিচি দিয়ে ২ মিনিট নাড়ুন। এরপর গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
কাঁঠাল বিচির পুষ্টিগুণ
কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে প্রোটিন, যা মাছ-মাংসের বিকল্প হতে পারে। এটি বিপাকক্রিয়া বাড়ায়, হজমে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং এতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান পেটের রোগ প্রতিরোধে কার্যকর। এছাড়া এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমায়।



