তীব্র দূষণ, পানিতে অক্সিজেনের আশঙ্কাজনক ঘাটতি এবং ভারী নৌযানের বিকট শব্দের মধ্যেও বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিপন্ন প্রজাতির গঙ্গানদী ডলফিন বা শুশুক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এক বছরের এক দীর্ঘ গবেষণায় উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক ও চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, বুড়িগঙ্গা নদীর প্রায় ২৭ কিলোমিটার বিস্তৃত অংশে এখনো প্রায় ২০টির মতো বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিন টিকে রয়েছে। তবে নদীটিতে এদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। বর্তমানে প্রতি কিলোমিটারে ডলফিনের দেখা পাওয়ার হার নেমে এসেছে মাত্র ০.১৮-এ, যা ২০১৫ সালেও ছিল ০.৪৮। বাংলাদেশের অন্যান্য নদীর তুলনায় বুড়িগঙ্গায় ডলফিন এনকাউন্টার বা দেখা পাওয়ার এই হার সর্বনিম্ন।
অস্তিত্ব রক্ষার এই কঠিন যুদ্ধে ডলফিনগুলোর আচরণেও এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, রেকর্ড করা ডলফিনগুলোর প্রায় ৮০.৭ শতাংশই এখন নিজেদের রক্ষার্থে দলে দলে বিচরণ করছে। শুধু তা-ই নয়, নদীতে দেশীয় প্রজাতির মাছের চরম সংকট দেখা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা ক্ষতিকর ও আগ্রাসী সাকার মাছ খেয়ে জীবনধারণ করছে।
বুড়িগঙ্গার পানি অতিরিক্ত দূষিত হওয়ার পাশাপাশি পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ অত্যন্ত কমে যাওয়া এবং নৌযানের প্রচণ্ড শব্দ এদের টিকে থাকার ক্ষেত্রে বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীটির এই সংকটাপন্ন পরিবেশ থেকে ডলফিনগুলোকে বাঁচাতে এখনই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দ্রুতই বুড়িগঙ্গা থেকে হারিয়ে যাবে এই বিপন্ন প্রাণীগুলো।



