বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের তালিকায় বহু বছর ধরেই শীর্ষে আছেন ইলন মাস্ক, টেসলা ও স্পেসএক্সের মালিক। সম্প্রতি তাঁর সম্পদের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেয়ে তিনি হয়েছেন বিশ্বের প্রথম ‘অর্ধ-ট্রিলিয়নিয়ার’, অর্থাৎ প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলারের মালিক। তবে এত বিপুল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও মাস্ক দাবি করেন, তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন না।
২০২১ সালে এক সাক্ষাৎকারে মাস্ক জানান, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে তাঁর বসবাসের বাড়িটির দাম মাত্র ৫০ হাজার ডলার। তাঁর সাবেক সঙ্গী, কানাডীয় সংগীতশিল্পী গ্রাইমস ২০২২ সালে ভ্যানিটি ফেয়ার সাময়িকীকে বলেন, “মানুষ যেমন ভাবেন, মাস্ক তেমন বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন না। কখনো কখনো তিনি এমন জীবনযাপন করেন, যা দারিদ্র্যসীমার নিচেও পড়ে।” এমনকি একবার তাঁদের ম্যাট্রেস ফুটো হয়ে গেলেও মাস্ক নাকি নতুনটি কিনতে রাজি হননি।
তবে মজার বিষয় হলো, বিলাসবহুল বাড়ির প্রতি অনাগ্রহ থাকলেও দামী গাড়ি ও ব্যক্তিগত বিমানের প্রতি মাস্কের আগ্রহ অপরিসীম। ২০১৩ সালে তিনি জেমস বন্ড সিনেমায় ব্যবহৃত ১৯৭৬ সালের লোটাস এসপ্রিট স্পোর্টস কারটি ১০ লাখ ডলারে নিলামে কেনেন। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে একাধিক গালফস্ট্রিম প্রাইভেট জেট, যেগুলোর প্রতিটির দাম কয়েক কোটি ডলার। মাস্ক বলেন, “আমি যদি উড়োজাহাজ ব্যবহার না করি, তাহলে কাজ করার সময় কমে যায়।”
একসময় ইলন মাস্ক ক্যালিফোর্নিয়ার বেল-এয়ার এলাকায় সাতটি অভিজাত বাড়ির মালিক ছিলেন। সেগুলোতে ছিল সুইমিং পুল, টেনিস কোর্ট, ওয়াইন সেলার, ব্যক্তিগত লাইব্রেরি ও বলরুম। ২০২০ সালে তিনি ঘোষণা দেন— “আমি আমার প্রায় সব স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে দেব। সম্পদ শুধু বোঝা বাড়ায়।” তিনি তাঁর বেশিরভাগ বাড়িই বিক্রি করেন, তবে কিংবদন্তি অভিনেতা জিন ওয়াইল্ডারের পুরনো বাড়িটি সংরক্ষণের শর্তে তাঁর ভাগনে জর্ডান ওয়াকার-পার্লম্যানের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালে মাস্ক আবার সেই বাড়িটির মালিকানা ফিরে পান।
বর্তমানে মাস্ক টেক্সাসের দক্ষিণাঞ্চলে একটি ছোট ঘরে থাকেন, যা তাঁর স্পেসএক্সের কার্যক্রম কেন্দ্রের কাছেই অবস্থিত। বিলাসিতা থেকে দূরে থাকা এই জীবনযাপন অনেকের কাছে অদ্ভুত মনে হলেও তাঁর ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মানানসই।
তবে দানশীলতা নিয়েও বিতর্ক আছে। ইলন মাস্ক তাঁর ‘মাস্ক ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে শত শত কোটি ডলারের শেয়ার দান করেছেন, কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তাঁর অনুদান কার্যক্রম অনেক সময় “বিশৃঙ্খল ও স্বার্থান্বেষী”। অনেক অনুদানই নাকি মাস্কের নিজস্ব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতেই ফিরে গেছে। যদিও মাস্ক দাবি করেন, তাঁর দান ও বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য মানবতার অগ্রগতি ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করা।
গুগলের সাবেক সিইও ল্যারি পেজ একবার মজা করে বলেছিলেন, “সে (মাস্ক) একপ্রকার গৃহহীন। মাঝেমধ্যে ই-মেইল পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘আজ রাতে তোমার বাড়িতে থাকতে পারি?’” এই কথাটিই যেন মাস্কের জীবনযাত্রাকে সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরে— অর্থে অগাধ, অথচ জীবনে সরল।



