আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে ক্রিকেটের জন্য একটি দুঃখজনক ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের সংগঠন বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটিং দেশের বিশ্বকাপের বাইরে থাকা খেলাটির জন্য, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য এবং সমর্থকদের জন্য গভীর হতাশার। নিরাপত্তা উদ্বেগ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে টুর্নামেন্ট শুরুর খুব কাছাকাছি সময়ে সূচিতে পরিবর্তন আনা বাস্তবসম্মত নয় বলে জানায় আইসিসি।
ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মফাট বলেন, বিভাজন বা বর্জনের পথে না গিয়ে ক্রিকেটের সব অংশীজন—সংস্থা, লিগ ও খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান খোঁজা জরুরি। তার মতে, বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানো শুধু একটি দলের অনুপস্থিতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কাঠামোগত দুর্বলতাকেও সামনে এনে দিয়েছে।
সংস্থাটি মনে করছে, এই ঘটনা দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতিফলন। অতীতে পাকিস্তান আয়োজক হলে ভারতের ম্যাচ নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের উদাহরণ রয়েছে, আর আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সিদ্ধান্তও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। এদিকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের চূড়ান্ত অংশগ্রহণ এখনো সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
টম মফাট আরও সতর্ক করে বলেন, চুক্তি রক্ষা, খেলোয়াড়দের স্বার্থ এবং তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনার ঘাটতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। এসব কাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেটের প্রতি আস্থা, ঐক্য এবং খেলাটির ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

