আসন্ন আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬–এ পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো চূড়ান্ত নয়। বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়াকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, এই প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে বিশ্বকাপে জাতীয় দল পাঠানো হবে কি না, তা নতুন করে বিবেচনা করছে ফেডারেল সরকার।
পাকিস্তান সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে পাকিস্তান দল পাঠানোর অনুমতি নাও দিতে পারে সরকার। আইসিসির বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ ও দ্বৈত নীতির অভিযোগে দেশটির রাজনৈতিক ও ক্রীড়া অঙ্গনে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ইস্যুতে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। এই সিদ্ধান্তকেই অন্যায্য ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে করছে পাকিস্তান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে। তবে প্রাথমিক আলোচনায় ইঙ্গিত মিলেছে, সরকার পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি নাও দিতে পারে। বিষয়টি শুধু ক্রিকেট নয়, এটি নীতিগত অবস্থানের সঙ্গেও জড়িত।”
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে কোনো এক বা একাধিক দেশের প্রভাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, “একদিকে কিছু দেশ নিজেদের সুবিধামতো ভেন্যু নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ সত্ত্বেও বাংলাদেশকে বিকল্প ভেন্যুর সুযোগ দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন দ্বৈত মানদণ্ড চলতে পারে না।”
এর আগে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি আইসিসির সিদ্ধান্তকে অসঙ্গতিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় সংস্থাটির স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এ বিষয়ে পিসিবি সরকারের নির্দেশনাই অনুসরণ করবে।
লাহোরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও বোর্ডের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, সরকার যে সিদ্ধান্তই নিক—বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ হোক বা প্রত্যাহার—তারা সেটিই মেনে নেবেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে আইসিসির শাসনব্যবস্থা, নিরপেক্ষতা ও ন্যায্যতা নিয়ে নতুন করে বৈশ্বিক বিতর্ক শুরু হতে পারে।



