ভাবুন তো, আয়েশ করে খাওয়া আমাদের অতি সাধারণ ‘পেঁয়াজু আর মুড়ি’ দিয়ে যদি বিশ্বখ্যাত কোনো রান্নার প্রতিযোগিতা জয় করা যায়! হ্যাঁ, ঠিক এমন অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটিয়েছেন ৪৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাঁধুনি সাবিনা খান । বাঙালির বিকেলের এই প্রিয় নাশতা দিয়েই তিনি জায়গা করে নিয়েছেন ‘মাস্টারশেফ ইউকে’-এর ২২তম আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে ।
পেশায় পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক সাবিনা প্রতিযোগিতায় নিজের এই বিশেষ খাবারটির নাম দিয়েছেন ‘সালাদ অব হারমোনি’ । এই খাবারে পেঁয়াজু ও মুড়ির সঙ্গে ছিল বিটের রঙে রাঙানো ডিম, মুচমুচে মুরগির চামড়া আর শর্ষের তেলের সসের এক দারুণ মিশ্রণ । বিচারকেরা এই খাবার খেয়ে এতটাই মুগ্ধ হয়েছেন যে, মুচমুচে পেঁয়াজুকে তাঁরা ভালোবেসে ডাকছেন ‘আনন্দের বুলেট’ বা ‘বুলেটস অব জয়’ ! প্রখ্যাত ব্রিটিশ খাদ্য সমালোচক জে রেইন এবং আইরিশ শেফ অ্যানা হফ তাঁর রান্নার নিখুঁত স্বাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন ।
তবে তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে আছে এক আবেগঘন গল্প। ঢাকার গুলশানে বেড়ে ওঠা সাবিনার রান্নার প্রধান অনুপ্রেরণা হলেন তাঁর মা মুনাওয়ার, যাঁর হাতের নানা পদের খাবার খেয়েই তাঁর রান্নার শখ তৈরি হয় । সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, ঠিক ১৬ বছর আগেও সাবিনা মাস্টারশেফে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু তখন তিনি অন্তঃসত্ত্বা থাকায় আর অংশ নিতে পারেননি . এত বছর পর সেই দুই ছেলের প্রবল উৎসাহেই তিনি আবার তাঁর অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের জন্য রান্নার এই বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসেছেন !
দেশি হেঁশেলের চেনা স্বাদ ও সংস্কৃতিকে সঙ্গী করে সাবিনা কি পারবেন আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে চূড়ান্ত বিজয়ীর মুকুট ছিনিয়ে আনতে? সেই রোমাঞ্চকর ফলাফল জানতে পুরো বিশ্বকে অপেক্ষা করতে হবে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ।



