টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা। ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বিকল্প হিসেবে গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলেও সেই পথও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আয়ারল্যান্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা নির্ধারিত গ্রুপ ছাড়বে না। ফলে বাংলাদেশের সামনে বিকল্পের সংখ্যা ক্রমেই কমে আসছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চেয়েছিল আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদল করে শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ম্যাচগুলো খেলতে। তবে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড (সিআই) এই প্রস্তাবে অনড়ভাবে ‘না’ জানিয়েছে। শেষ চেষ্টা হিসেবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল শনিবার রাতে আইরিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন বলে জানা গেলেও, সেই আলোচনায় কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে কি না—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী গ্রুপ ‘সি’, যেখানে খেলবে বাংলাদেশ, অনুষ্ঠিত হবে ভারতে। এই গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য গ্রুপ ‘বি’-তে রয়েছে শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, জিম্বাবুয়ে, ওমান ও আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কায় যেতে হলে শুধু আয়ারল্যান্ড নয়, আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট সব দলের সম্মতির প্রয়োজন—যা বাস্তবে প্রায় অসম্ভব।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে জানা গেছে, আইসিসির এক কর্মকর্তা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন—বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ২০টি দেশই আইসিসির কাছে সমান এবং কারও জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। আইসিসি একাধিকবার জানিয়ে দিয়েছে, শেষ মুহূর্তে সূচি বা ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই।
ঢাকায় আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বিসিবি আবারও তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে—নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা ভারতে খেলতে রাজি নয়। তবে আইসিসির পক্ষ থেকে পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের মাঠে বাংলাদেশের জন্য কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। আইসিসির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ ঢাকায় এসে মূলত বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে রাজি করানোর চেষ্টা করেন, শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর কোনো আশ্বাস দেননি। ভিডিও কলে যুক্ত আইসিসি কর্মকর্তা গৌরব সাক্সেনাও জানিয়ে দিয়েছেন—শেষ মুহূর্তে সূচি বদল বাস্তবসম্মত নয়।
বিসিবির একটি অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, এখন সবকিছু অনেকটাই আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি চাইলে জরুরি বোর্ড সভা ডাকতে পারেন। তবে সেখানেও অন্যান্য দেশের সমর্থন প্রয়োজন, যেখানে আয়ারল্যান্ড ইতিমধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা নিশ্চিত আশ্বাস পেয়েছি—আমাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা থেকেই সরানো হবে না।”
৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্বকাপ শুরুর দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সামনে কার্যত দুটি পথ খোলা রয়েছে—একটি হলো ভারতে গিয়ে খেলতে সম্মত হওয়া, অন্যটি হলো বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো। সে ক্ষেত্রে বিকল্প দল হিসেবে স্কটল্যান্ডকে বিবেচনা করা হতে পারে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—তবে কি সত্যিই শেষ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন?



